(দিনাজপুর২৪.কম) প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পাচারে অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারের পাসপোর্ট জব্দ থাকার পরও কীভাবে বিদেশে পালিয়ে গেল তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পিকে হালদার যেদিন দেশত্যাগ করেন, সেদিন বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরতদের এবং দুদকের দায়িত্বে কে ছিলেন তার তালিকা দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পিকে হালদারের মামলার সর্বশেষ অগ্রগতিও জানাতে চেয়েছেন আদালত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তিনটি বিভাগে ২০১০ সাল থেকে কর্মরত ৩৯৪ কর্মকর্তার তালিকা হাইকোর্টে দাখিলের পর গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই তিন বিভাগে গত ২০০৮ থেকে ২০২০ সালে দায়িত্বে থাকাদের নাম, পদবি, ঠিকানা সরবরাহ করতে ২১ জানুয়ারি নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই সময়ে অর্থপাচার রোধে এসব কর্মকর্তার ব্যর্থতা আছে কিনা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা তা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলা হয়। ওই আদেশ অনুসারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ডিপার্টমেন্ট অব ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন্স অ্যান্ড মার্কেটস ১৪৭ জন, ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউটশন্স ইন্সপেকশন ডিপার্টমেন্ট ৫৭ জন, ইন্টারন্যাল অডিট ডিপার্টমেন্ট ১৯০ জন ২০১০ সালে থেকে কর্মরত আছেন।

এর আগে ২০০৮ ও ২০০৯ সালে ম্যানুয়েল সিস্টেম থাকায় তাদের তালিকা প্রণয়নে সময় চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া জালিয়াতি ও অর্থপাচারে ব্যর্থ বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ জন্য  কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সময় প্রয়োজন। এ বিষয়গুলো উপস্থাপনের পর আদেশ দেন বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন।

গত বছরের ১৮ নভেম্বর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘পিকে হালদারকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে দুদক’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে গত ১৯ নভেম্বর তাকে বিদেশ থেকে ফেরাতে এবং গ্রেপ্তার করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় ২১ জানুয়ারি ওই আদেশ দেন হাইকোর্ট।

পিকে হালদার এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএলএফএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। আইএলএফএসএল গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে পিকে হালদারের বিদেশ পালানোর পর গত বছরের ৮ জানুয়ারি দুদক তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে। পরে দুই বিনিয়োগকারীর করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ এক আদেশে প্রশান্ত কুমার হালদারসহ সংশ্লিষ্ট ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সহযোগী উজ্জ্বল নন্দীর স্বীকারোক্তি প্রায় ৭১ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদারের সহযোগী পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জল কুমার নন্দী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গতকাল ৫ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। এদিন স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ২৫ জানুয়ারি পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জল কুমার নন্দী এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হকের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গত ২ ফেব্রুয়ারি রাশেদুল হক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। -ডেস্ক