(দিনাজপুর২৪.কম) উন্নত জাতীয় পরিচয়পত্র স্মার্টকার্ড প্রকল্পে অর্থায়নকারী সংস্থা বিশ্বব্যাংকের থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ধীরগতির কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় এই সংশয় প্রকট পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন সংস্থাটিকে সম্পৃক্ত রাখতে তৎপর হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে আগামীকাল কমিশন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সঙ্গে সংস্থার প্রতিনিধিদের বৈঠক হবে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে থাকছে বিশ্বব্যাংক নাকি সড়ে দাঁড়াচ্ছে।

এ ছাড়া স্মার্টকার্ড প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় সাড়ে ১২ শ কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। কারণ, বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন না করলেও প্রকল্পটির গন্তব্য অনিশ্চয়তা হবে, তখন এ সংশ্লিষ্টদের থাকা শঙ্কার মধ্যে পড়ে যাবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানতে চাইলে ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ  বলেন, স্মার্টকার্ড প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী ১৭ ডিসেম্বর শেষ হবে। এখনই প্রকল্পটি নিয়ে অর্থায়নকারী সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন। কারণ প্রকল্পটি নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। আশা করছি, বৃহস্পতিবার তাদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে সব জটিলতার অবসান ঘটবে।

ইসি এবং স্মাটকার্ড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জটিলতা মাথায় নিয়েই স্মার্টকার্ড প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। তা প্রায় দুই-আড়াই বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। শুরুতে কাজে ধীরগতির কারণে শেষ পর্যন্ত গতি বাড়ানো যায়নি। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৪ সালের ২৬ আগস্টের আগ পর্যন্ত আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর ইনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পে অগ্রগতি ছিল মাত্র ৩ দশমিক ২৮ ভাগ। এক হাজার ৩৭৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ের সবচেয়ে বড় এ প্রকল্পে পরামর্শক ও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা এবং কমিশনার ও কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরসহ বিবিধ খাতে ব্যয় করার হয় ৫০ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ হয়। দেখা যায়, প্রকল্প শুরুর এক বছর পর নিয়োগ হয় জনবল। অর্থাৎ প্রথম দুই বছরে কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া ছাড়া মূল কাজের অগ্রগতি ছিল নামমাত্র।

প্রাথমিক ধাপগুলো পেরুতেই সময় শেষ পর্যায়ে চলে আসে। পরবর্তীতে মেয়াদ আরো দেড় বছর বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ হয়। কথা ছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নয় কোটি ভোটার নাগরিকের হাতে স্মাটকার্ড পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া মাঝ পথে এসে কিছু কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার কারণে প্রকল্পের অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। এর মধ্যে নয় কোটি ভোটারের চোখের আইরিশ এবং দশ আঙুলের ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়া। এর জন্য আলাদা দরপত্র আহ্বান করা এবং সে প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে সম্প্রতি।

সারাদেশের স্মার্টকার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া আরো ত্বরান্বিত হবে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। কারণ এই প্রকল্পের সঙ্গে দুই হাজার করে চার হাজার ফিঙ্গার প্রিন্ট ও স্ক্যানার সংযুক্ত হচ্ছে। এসব কাজ সম্পন্ন না করে আগেই স্মাটকার্ড বিতরণ পর্যায়ে চলে যায়, যা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। তা ছাড়া, প্রকল্প পরিচালক বদলের কারণে অনেকটা পিছিয়ে যায় প্রকল্পের কাজ। তবে, ব্রি.জে. সালিম আহমদের পর এ পদে আসেন ব্রি.জে. সুলতানুজ্জামান মোহ. সালেহ উদ্দিন। সম্প্রতি তার নিজ কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার পর এখন নতুন প্রকল্প পরিচালক ব্রি.জে. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। তার নেতৃত্বে স্মাটকার্ড প্রকল্প সম্পন্ন করার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, নতুন করে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। কারণ যেকোনো প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চললেও অগ্রগতি সন্তোষজনক হলে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক সে প্রকল্পে অর্থায়নে আপত্তি তোলে না। তবে স্মার্টকার্ড প্রকল্পের মেয়াদ শেষ পর্যায় হলেও এখন পর্যন্ত অগ্রগতির হার প্রায় ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। জানা গেছে, সংস্থাটির কাছে একটি প্রকল্পের সন্তোষজনক অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ। এক্ষেত্রে প্রকল্পটি ঢের পিছিয়ে। ফলে সংস্থাটিকে প্রকল্পে রাখতে নানা তৎরপতা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া নয় কোটি ভোটারের পর আরো সোয়া এক কোটি ভোটারকে প্রযুক্তিনির্ভর এই কার্ড দিতে হবে ইসিকে। এর জন্য নতুন প্রকল্পও নিতে হবে কমিশনকে। আগামীকাল ২৩ মার্চ সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে এসব অমীমাংসিত বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে চেষ্টা থাকবে কমিশন সংশ্লিষ্টদের। কারণ এই প্রকল্পের সঙ্গে প্রায় সাড়ে ১২ শ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকায় স্মার্টকার্ড বিতরণ চলছে; এরইমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীতে শুরু হয়েছে বিতরণ কার্যক্রম। তবে ঢাকায় অধিকাংশই রয়েছে স্মার্টকার্ড না পাওয়াদের তালিকায়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বব্যাংক কোনো কারণে রাজি না হলে সরকারি অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। সেক্ষেত্রে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যৎ কি হবে তা নিয়েও কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

এখন পর্যন্ত প্রকল্পে যে সংখ্যক জনবল প্রয়োজন তার চেয়ে কম রয়েছে। কর্মরত জনবলের মধ্যে সহকারী গ্রোগ্রামার একজন, পরামর্শক ও জুনিয়র পরামর্শক চারজন করে আটজন, সহকারী পরিচালক তিনজন, সেকশন অফিসারের সহযোগী নয়জন, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট ৫৩জন, টেকনিক্যাল সাপোর্ট ২৪জন, কম্পিউটার অপারেটর তিনজন, সারাদেশে আউট সোর্সিং অপারেটর এক হাজার ১০০জন, সাপোর্ট সোর্সিং এমএলএস ১০ ও ড্রাইভার ১৪ জনসহ মোট এক হাজার ২৩৭ জন। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত করা না হলেও পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন তারা। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ পথে আসার সঙ্গে সঙ্গে দুঃচিন্তা ভর করেছে তাদের ওপর। রাজধানীতে কর্মজীবী মানুষের টিকে থাকা দুস্কর সেখানে বেকারত্ব অভিশাপ হয়ে ফিরে তাদের জীবনে এটা কোনোভাবেই মানতে পারছেন না প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। তারা এনআইডি ডিজিসহ কমিশন সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। -ডেস্ক