(দিনাজপুর২৪.কম) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন অধিদফতরে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়নে চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ইতোমধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের যেসব কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে, দ্রুত তাদের প্রত্যাহার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ-স্বাচিপ।

কয়েকজন চিকিৎসক নেতা জানান, নার্সিং অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়মিত পদায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের (নিপোর্ট) মহাপরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও প্রশাসন কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে। এসব প্রতিষ্ঠানকে অধিকতর জনসম্পৃক্ত করতে চিকিৎসকদের পদায়ন করা বাঞ্ছনীয়। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পর্যন্ত যতগুলো আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন তার সঙ্গে চিকিৎসকদের নিবিড় সম্পৃক্ততা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৮ অক্টোবর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএমএ ও স্বাচিপের শীর্ষ নেতারা চিকিৎসকদের পদে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়নের সমাালোচনা করেন। এ সময় মন্ত্রী সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের আশ্বাস দেন। এরপর ১৯ অক্টোবর বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে চিকিৎসক সংগঠনগুলোর মতবিনিময় সভা হয়।

সভায় এ ধরনের পার্শ্ব প্রবেশ অবিলম্বে বন্ধ করাসহ চিকিৎসক ও চিকিৎসা পেশার মর্যাদা রক্ষার্থে যে কোনো অপচেষ্টা রোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন নেতারা। এ লক্ষ্যে করণীয় নির্ধারণে জরুরি ভিত্তিতে দেশের প্রত্যেক জেলা বিএমএ ও স্বাচিপের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে যৌথ সভা এবং অন্য পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ওই সভায় জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক এবং সাবেক নেতারা উপস্থিত থেকে একমত হন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, এই জটিলতা নিরসনে আমরা মতবিনিময় শুরু করেছি। ইতোমধ্যে বিএমএ ও স্বাচিপ নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে। এছাড়া সাবেক নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সারা দেশে জেলা চিকিৎসক নেতাদের সঙ্গে এবং অন্য পেশাজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হব।

এরপর সম্মিলিতভাবে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল ‘এমন কোনো কাজ করা যাবে না যাতে আন্তঃক্যাডার দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। তাছাড়া তিনি সব ক্যাডারে বৈষম্য নিরসনের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং সরকারি নিয়মনীতি অমান্য করে চরদখলের মতো আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। জানতে চাইলে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ-স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান বলেন, এই জটিলতা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। মে মাসে যখন একজন অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ করা হয় তখন জনপ্রশাসনমন্ত্রী ও সচিব এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবকে আমরা লিখিতভাবে এর প্রতিবাদ জানাই। কিন্তু এটা আমলে না নিয়ে উল্টো অন্যান্য পদে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের নির্দেশ অমান্য করে তারা আরও বৈষম্য সৃষ্টি করছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারীর সময় চিকিৎসকরা যখন মানুষের সেবায় ব্যস্ত তখন তারা ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে পদ দখল শুরু করেন; যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে অচিরেই কর্মসূচি ঘোষণা করব। সূত্র : যুগান্তর