প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলার শেষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজিত হওয়ার পর বাংলার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল সেই সূর্য উদিত করার জন্যই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে কূটচালে লর্ড ক্লাইভ পরাজিত করে এবং বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়। ঠিক সেই সূর্য উদিত করার জন্যই ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।’

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে সংগ্রাম শুরু করলেও, তিনি জানতেন—বাঙালি জাতি শোষিত-বঞ্চিত, অধিকাংশ মানুষই দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে; যাদের নিজস্ব বাসস্থান নেই, খাবারের নিরাপত্তা নেই, চিকিৎসা নেই, শিক্ষা নেই। সম্পূর্ণভাবে অবহেলিত। তাঁর চিন্তা ছিল এই জাতির ভাগ্য তিনি পরিবর্তন করবেন। জাতিকে গড়ে তুলবেন। এমন একটি দেশ গড়ে তুলবেন, যে দেশের প্রতিটি মানুষ তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারে। এই লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাজনীতি করেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন।’

ফাঁসি দিতেই জাতির পিতাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জড়ানো হয়েছিল দাবি করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘প্রতিবাদ করতে গিয়ে বারবার জেল, জুলুম, অত্যাচারিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু তিনি সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। বঞ্চনার হাত থেকে বাঙালিকে মুক্তি দেয়া, বাঙালি জাতির জন্য একটি স্বতন্ত্র ভূমি গড়ে তোলা, বাঙালিকে একটি জাতি হিসেবে সারাবিশ্বে মর্যাদা দেয়া—এটাই ছিল জাতির পিতার লক্ষ্য।’

৬ দফার মাধ্যমে বাঙালির মুক্তির বীজ বপন করা হয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাঙালি জাতি অতি অল্প সময়ে ৬ দফাকে তাদের মুক্তির সনদ হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছিল। ৭০ এর নির্বাচন অনেক দল বর্জন করলেও বঙ্গবন্ধু তা করেননি। তার লক্ষ্য ছিল এই নির্বাচনের মাধ্যমে ৬ দফার প্রতি জনগণের ম্যানডেট নেয়া। জনগণের মনোভাব জানা। নির্বাচনে মানুষ ৬ দফার পক্ষে রায় দিয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের জন্য জাতির পিতা অনেক ঝুঁকি নিয়েছেন। তিনি ধীরে সুস্থ্যে কাজ করেছেন। পত্যেকটা পদক্ষেপ হিসাব করে নিতেন। ছত্রলীগ ছিল অগ্রগামী হিসেবে।’

পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের সব অবদান ছিল বাঙালিদের, পশ্চিম পাকিস্তানিদের কোনো অবদান ছিল না, তবুও তারা বাঙালিদের বঞ্চিত করতো বলেও মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি জাতিকে অসহযোগ আন্দোলন থেকে সশস্ত্র বিপ্লবের দিকে নিয়ে গিয়ে বিজয় অর্জন করা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। বঙ্গবন্ধু তা করেছিলেন।’ -ডেস্ক