(দিনাজপুর২৪.কম) আমন ধান উঠলেও দাম না কমে আরও বেড়েছে চালের দাম। একই অবস্থা পেঁয়াজেও, দাম না কমে উল্টো লাগামহীন বাড়ছে দাম। দাম বাড়তে বাড়তে বিলাসী পণ্যে রূপ নিয়েছে পেঁয়াজ। চাল ও পেঁয়াজের দাম বারবার বৃদ্ধি পাওয়ায় অস্বস্তিতে ভোক্তারা। অন্যদিকে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে সব ধরনের সবজিতে। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে অল্প টাকায় পছন্দের সবজি কিনতে পারছেন ভোক্তারা। অনেক সবজির কেজি এখন ১০-২০ টাকায় নেমে এসেছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালী ও কারওয়ানবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বাজার ও মান ভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা কেজি দরে। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৯০ টাকায়। আমন ধানের নতুন চাল বাজারে আসার পরেও কেজি প্রতি মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ২-৩ টাকা। সর্বশেষ খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, কেজি প্রতি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায় যা গত সপ্তাহে ছিল ৬২ টাকা। বিআর-২৮ চাল ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা গত সপ্তাহে ছিল ৫২ টাকা এবং স্বর্ণা ও পারিজা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকায় যা গত সপ্তাহে ছিল ৪২-৪৩ টাকা। বাজার ঘুরে দেখা যায়, শাক-সবজিতে ভরপুর বাজার। বেগুন, শিম, লাউ, কাঁচা-পাকা টম্যাটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, মিষ্টি কুমড়া, কচুর লতি, লালশাক, পালংশাক, লাউশাক কোনো কিছুর কমতি নেই বাজারে। ফলে ফুলকপি ও বাঁধাকপি ছাড়া বাজারে সব সবজির দাম কমে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ১০০ টাকার ওপরে কেজি দরে বিক্রি হওয়া পাকা টম্যাটো কোনো কোনো বাজারে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর কাঁচা টম্যাটোর দাম দাঁড়িয়েছে ২০-৩০ টাকা কেজিতে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দাম কমার তালিকায় রয়েছে শিম, মুলা ও লাউয়ের। শিমের কেজি কমতে কমতে ২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে এখন এক কেজি শিম ২০-৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। মুলা বিক্রি হচ্ছে ১০-২০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগেও এ সবজিটির দাম ২০ টাকার ওপরে ছিল। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া লাউয়ের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৩০-৪০ টাকা। তবে শীতের প্রধান সবজি হিসেবে পরিচিত ফুলকপির দাম কিছুটা বেড়েছে। গত সপ্তাহে যে ফুলকপি ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল সেটির দাম বেড়ে এখন হয়েছে ২৫-৩০ টাকা। বাঁধাকপি আগের সপ্তাহের মতোই ২০-৩০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া শাল গমের দাম কমে ১৫-২০ টাকায় নেমেছে। বেগুনের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৩০-৪০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫-৫০ টাকা। দাম কমার তালিকায় রয়েছে নতুন আলুও। প্রতি কেজি নতুন আলু ২০-৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০-৬০ টাকা। নতুন আলুর দাম কমায় পুরাতন আলুর দামও কমেছে। এখন ১০-১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পুরাতন আলু। এছাড়া দুই আটি লাল শাক ১৫, দুই আটি পালং শাক ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে লাউ শাকের দাম চড়া, আটি প্রতি ৩৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। চালের দামের বাড়তি সম্পর্কে কারওয়ান বাজারের চালের খুচরা বিক্রেতা মাহফুজ আমার সংবাদকে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী চালের যোগান কম। আমন ধান প্রায় ৪০ শতাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। বোরো ধান না ওঠার আগে দাম কমবে না। মহাখালী বাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা শাহীন খান বলেন, এতো দিন ভুগিয়েছে সবজি, পেঁয়াজ ও চাল। এই মূল্যবৃদ্ধির অবস্থা আর কত দিন। বাজারে আসলে দাম শুনেই মন খারাপ হয়ে যায়। ইচ্ছা থাকলেও দাম বেশি থাকায় কেনা যাচ্ছে না। অন্যদিকে সর্বশেষ খুচরা বাজার দর অনুযায়ী দেশি রসুন ৮০, আমদানি করা রসুন ৮৫, চিনি ৫৫, দেশি মসুর ডাল ১০০-১২০, আমদানি করা মসুর ডাল ৬০ টাকা করে কেজি বিক্রি হচ্ছে।
অপরিবর্তিত রয়েছে সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, মাছ ও মাংসের দাম। মাছের সর্বশেষ বাজার দর অনুযায়ী প্রতি কেজি কাতল মাছ ২৪০, পাঙ্গাশ মাছ ১২০, রুই মাছ ২৩০-২৮০, সিলভার কার্প ১৩০, তেলাপিয়া ১৩০, শিংমাছ ৪০০ ও চিংড়ি ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের দরেই বিক্রি হচ্ছে সকল ধরনের মাংস। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৪৮০-৫০০, খাসির মাংস ৭০০-৭৫০ ও ব্রয়লার মুরগি ১২০-১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কক মুরগি প্রতি পিস সাইজ অনুযায়ী ১৫০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। -ডেস্ক