মো. নজরুল ইসলাম (দিনাজপুর২৪.কম) মায়ের সাথে স্বর্ণের দোকানে গহনা তৈরী করতে গিয়ে ওই দোকানের অ্যাসিড পানে মোছা. মোনতাহুল জান্নাত সাবা (৫) নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগে ওই স্বর্ণের দোকান মালিক সাইফুল ইসলামকে (৪০) আটক করেছে থানা পুলিশ।
জানা গেছে, বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বিরামপুরের পাশর্^বর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলা শহরের ‘সোমা জুয়েলার্স’ নামের স্বর্ণের দোকানে এই ঘটনা ঘটে। শিশু মোনতাহুল জান্নাত সাবা উপজেলার বিনোদনগর নন্দনপুর গ্রামের শাহাজুল ইসলামের মেয়ে। বিরামপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মিথুন সরকার মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক সোমা জুয়েলার্সে’র মালিক মো.সাইফুল ইসলাম উপজেলার রামপুর এলাকার সবুজার রহমানের ছেলে।
বুধবার দুপুরে নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, উপজেলা শহরের ‘সোমা জুয়েলার্স’ নামের একটি স্বর্ণের দোকানে ‘মা’ মোর্শেদা বেগম’র সঙ্গে গহনা তৈরী করতে যায় শিশু মোনতাহুল জান্নাত সাবা। সেখানে ক্ষুধা পেলে ওই শিশুটি মায়ের কাছে বিস্কুট খেয়ে পানি খেতে চান। এই সময়, ওই দোকানের মালিক সাইফুল ইসলাম গ্লাসে করে পানির বদলে স্বর্ণ পরিস্কার করা অ্যাসিড খেতে দেয়। গ্লাসের অ্যাসিড খেয়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর শিশুটি মারা যায়।
নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শাহাজাহান আলী বলেন,‘অসুস্থ্য শিশুটিকে নিয়ে তার মা মোর্শেদা বেগম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার আগেই শিশুটি মারা গেছে। তবে শিশুটির মায়ের বর্ণনা অনুযায়ী পানির পরিবর্তে স্বর্ণের দোকানের অ্যাসিড পানে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে’।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার চৌহান বলেন,‘স্বর্ণের দোকানের অ্যাসিড পান করে শিশু মৃত্যের ঘটনায় দোকানের মালিক সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। শিশুটির লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।
বিরামপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মিথুন সরকার বলেন,‘ শিশুমৃত্যের ঘটনায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ‘সোমা জুয়েলার্স’র মালিক সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।