(দিনাজপুর২৪.কম) পাবনার শহীদ আমিন উদ্দিন স্টেডিয়াম মাঠে ১৫ জেলার ৬১৪ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেছেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় পাবনার শহীদ অ্যাডভোকেট আমিনউদ্দিন স্টেডিয়ামে জেলা পুলিশের এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তারা।

সন্ত্রাসী জীবনে জড়িয়ে পরিবার, স্ত্রী-সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা পালিয়ে বেড়িয়েছেন। দিনরাত মিলিয়ে খুব একটা ঘুমাতেও পারেননি। পুলিশ আর প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী সবসময় তাড়া করে ফিরত তাদের। অনিশ্চিত জীবনে ছিল না এতটুকু শান্তি। তাই এবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চরমপন্থীরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান চরমপন্থী দলের সদস্যরা।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু  জানান, পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, জয়পুরহাট, নওগাঁ, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, খুলনা, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, বাগেরহাট ও যশোর জেলার প্রায় ৬১৪ চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থি সদস্যদের আর্থিক প্রণোদনাসহ পুনর্বাসন করা হবে।

আত্মসমর্পণের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, অতীতের ভুলভ্রান্তি ক্ষমা চেয়ে তারা আত্মসমর্পণ করছে। যেকোনো চরমপন্থি, সন্ত্রাসী বা মাদক ব্যবসায়ী— যেই হোক, অতীতের ভুলভ্রান্তি ভুলে আত্মসমর্পণ করলে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক।

মন্ত্রী আরও বলেন, আজ থেকে ৩০ বছর আগেও দেখা যেত, বাংলাদেশে চরমপন্থিরা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নামে প্রভাব বিস্তার করত এবং তারা একটি বলয়ের মাধ্যমে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করত। এরা ক্রমশ দুর্বল হয়ে ও ছোট হয়ে গেছে, এদের সংখ্যা কমে গেছে। যে কয়েকটি গ্রুপ আছে, তাদের অধিকাংশই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার পাবনায় ৬১৪ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেছে।

তিনি বলেন, আমরা আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। এর আগে বনদস্যু, জলদস্যু ও মাদক বিক্রেতারা যেভাবে আত্মসমর্পণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার যে ব্যবস্থা নিয়েছে, চরমপন্থিদের বিরুদ্ধেও একইভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে পাবনায় ১৯৯৯ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের কাছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার চার শতাধিক চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিল। সেই সময় তাদের আনসার বাহিনীতে বিশেষ আনসার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পুনর্বাসিত করা হয়। এবারও চরমপন্থিদের আর্থিক প্রণোদনাসহ পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। -ডেস্ক