(দিনাজপুর ২৪.কম) কাপ্তাই বাঁধ রক্ষা এবং ঝুঁকি এড়ানোর জন্য কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলি পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্প্রিলওয়ে দিয়ে কাপ্তাই লেকের অতিরিক্ত পানি ছাড়া হচ্ছে। কেন্দ্রের স্প্রিলওয়ের ১৬টি গেটের সবগুলো খুলে দিয়ে গত বুধবার সকাল থেকে লেকের অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেয়া হয়। অতিরিক্ত পানি ছাড়ার ফলে এবং বর্ষণ থেমে যাওয়ায় কাপ্তাই বাঁধ এখন ঝুঁকিমুক্ত। কাপ্তাই হ্রদ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বর্ষণে উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। তলিয়ে গেছে জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। অতিরিক্ত পানির চাপে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে কাপ্তাই বাঁধ। জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন বলেন, বর্তমানে কাপ্তাই বাঁধ তেমন একটা ঝুঁকিতে নেই। কারণ গত রাত থেকে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না এবং পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্প্রিলওয়ের সবগুলো গেট খুলে দিয়ে লেকের অতিরিক্ত পানি ছাড়া অব্যাহত আছে।
তিনি বলেন, বর্ষণে কাপ্তাই লেকের পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এতে লেকে পানির উচ্চতা ১০৮ ফুট অতিক্রম করেছে। লেকে অতিরিক্ত পানি বাড়ার ফলে শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বহু বাড়িঘর ও ফসলি জমি ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে পড়ে কাপ্তাই বাঁধ। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতি এবং বাঁধের ঝুঁকি এড়াতে গত বুধবার কর্ণফুলি পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্প্রিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে পানি ছেড়ে দিয়ে লেকের অতিরিক্ত পানির ৩ ফুট কমানোর জন্য কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও পানির চাপ সামাল দিতে না পারায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানি ছাড়ার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে লেকের ৫ ফুট পানি কমানো হচ্ছে। সেই পরিমাণে পানি ছাড়া এখনও অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে সার্বক্ষণিক নজরে রাখতে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া আছে। বর্তমানে কাপ্তাই বাঁধ ঝুঁকিমুক্ত পর্যায়ে এসে গেছে। তবে ঝুঁকি বাড়ার আশংকা দেখা দিলে পানি ছাড়ার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।
কর্ণফুলি পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আবদুর রহমান জানান, হ্রদে রুলকার্ভ অনুযায়ী স্বাভাবিক নিয়মে ৯৬ এমএসএল (মীন সি লেভেল) পর্যন্ত পানি ধারণ করে রাখা যায়। বর্ষণে এবার লেকে পানির উচ্চতা হঠাৎ ১০৮ দশমিক ৬ এমএসএল পর্যন্ত চলে গেছে। অর্থ্যাৎ লেকে স্বাভাবিকের চেয়ে ১২ দশমিক ৬ ফুট পানি বেশি হয়েছে।  হ্রদে পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট বা এমএসএল। এ সীমা অতিক্রম করার আশংকা দেখা দিলে বাঁধ রক্ষায় অতিরিক্ত পানি স্প্রিলওয়ে দিয়ে ছেড়ে দিতে হয়।
তিনি আরও জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ অধিক হারে বেড়ে যাওয়ায় কাপ্তাই বাঁধ এবার মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। পানির চাপ কমাতে ¯িপ্রলওয়ে দিয়ে ছাড়ার পাশাপাশি কেন্দ্রের ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৫টি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট চালু রেখে দৈনিক সর্বোচ্চ ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে গেলেও অবিরাম উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তাই উর্ধতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে বর্তমানে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রের স্প্রিলওয়ে দিয়ে লেক থেকে প্রতি সেকেন্ডে সাড়ে ৬৭ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এ পরিমাণ পানি ছাড়া অব্যাহত থাকবে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ঝুঁকি এড়াতে পানি ছাড়ার পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে।
অন্যদিকে কাপ্তাই লেকের অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেয়ায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়ার লিচুবাগানসহ বাঁধের ভাটি এলাকায় প্লাবনের ঝুঁকি বেড়েছে। ইতিমধ্যে বাঁধ দিয়ে পানি ছাড়ায় ভাটি এলাকার বহু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ছেড়ে দেয়া পানির ঢলে স্রােতের গতি এবং উচ্চতা বাড়ায় সাময়িকভাবে চন্দ্রঘোনা ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ। (ডেস্ক)