(দিনাজপুর২৪.কম) আন্তর্জাতিক উদারাময় রোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইসিডিডিআর,বি) র একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি পাঁচজন বিবাহিত নারীর মধ্যে একজন স্থূল অথবা অধিক ওজনের অধিকারী। গবেষণাটি এই ধরণের স্থূলতার জন্য সম্পদ সূচক, শিক্ষার অবস্থা, টেলিভিশন দেখার সময়কাল এর মতো বেশ কিছু কারণকে চিহ্নিত করে, যেগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিবাহিত নারীদের স্থূলতার ব্যাপকতাকে হ্রাস করা সম্ভব।

বিশ্বব্যাপী স্থূলতা বা ওবেসিটি ক্রমাগত বাড়ছে। তবে নারীদের স্থূলতা তুলনামূলক বেশি। অনেক নারীই এ বিষয়ে অবহেলা করে থাকেন। কারও কারও ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব রয়েছে।

ওবেসিটি বা স্থূলতা বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ জরুরি। আর এজন্য ঠিক মাত্রায় প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে প্রায় ৬৫ কোটি বয়স্ক ব্যক্তি ওবেসিটিতে আক্রান্ত। ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ফেডারেশনের (ডব্লিউওএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বে ওবেসিটি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়বে।

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন যথাযথ ডায়েট। অনিয়মিত জীবনযাপনের ফলে নারীদের ওবেসিটি ক্রমাগত বাড়ছে। কিন্তু জনস্বাস্থ্যে ওবেসিটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। নন-কমিউনিকেবল ডিজিজের তালিকায় ওবেসিটিকেও গুরুত্ব দিয়ে রাখা দরকার।

ওবেসিটি থেকে শরীরে নানা রকম জটিলতার সৃষ্টি হয়। এর ফলে নারীর গর্ভাবস্থায় হার্টের অসুখ দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন কারণে নারীদের ওবেসিটি গ্রাস করছে। সিএমআরআই হাসপাতালের চিফ ডায়েটিশিয়ান ও ইন্ডিয়ান ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ঈপ্সিতা চক্রবর্তী জানান, ওবেসিটিকে প্রতিরোধের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে ও শরীরচর্চা করলে ওবেসিটির গ্রাস থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। ব্যায়ামে পদ্ধতিগত কিছু পরিবর্তন করলে তার কার্যকরী ফল পাওয়া যায়। এছাড়া যথার্থ পুষ্টি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রোটিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য এমন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে, যা সহজে হজম হবে। ৯টি অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরের পক্ষে জরুরি। যাকে মডেল পিডিসিএএএস স্কোর বলে অর্থাৎ (প্রোটিন ডায়জেস্টিবিলিটি কারেকটেড অ্যামাইনো অ্যাসিড স্কোর)। হজম ক্ষমতার জন্য শরীরে অ্যামাইনো অ্যাসিডের প্রয়োজন রয়েছে। চর্বি, কোলেস্টেরল ও শর্করাসমৃদ্ধ খাবার কম খাওয়া উচিত। ফল ও সবজি খেতে হবে। চর্বিজাতীয় খাবার, চিনি ও লবণ মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। প্রাণিজ প্রোটিনের থেকে উদ্ভিজ প্রোটিনের গুণ বেশি। এগুলো হার্টের রোগ ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি কমায়। সূত্র: জিনিউজ। -ডেস্ক