(দিনাজপুর২৪.কম) মির্জাপুরে নিজের স্ত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে এনজিও কর্মী রণজিৎ কুমার রায়কে হত্যা করে ঋণ গ্রহীতা ছানোয়ার। শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আলাদতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে ছানোয়ার একথা বলেন বলে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন।

ছানোয়ার তার জবানবন্দীতে আদালদকে জানিয়েছে এনজিওকর্মী রণজিৎ কিস্তীর টাকা তুলতে গিয়ে ছানোয়ারের স্ত্রীর হাত ধরে টানাটানি করেন। এ দৃশ্য ছানোয়ার দেখে ফেললে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন  ১৯ নবেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে এনজিওকর্মী রণজিৎকে হত্যার উদ্দেশে শরবতের সাথে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করে। তারপর গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বসত ঘরের কোণে লাকড়ীর আড়ালে লাশ ফেলে রাখে। ওইদিন রাতে সুযোগ বুঝে রণজিতের লাশ কাধে করে উপজেলার দুল্যামুনসুর ব্রিজের নীচে ফেলে রাখে বলে ছানোয়ার জবানবন্দীতে জানিয়েছে।

এদিকে ঘটনার পরদিন সকালে মির্জাপুর থানা পুলিশ নিখোঁজের ২০ খন্টা পর গলায় রশি বাঁধা অবস্থায় দুল্যামুনসুর ব্রিজের নীচ থেকে  রণজিৎ কুমার রায়ের (৩০) লাশ উদ্ধার করে। এছাড়া সন্ধ্যায় ছানোয়ারের বাড়ির কাছ থেকে রণজিতের ব্যবহৃত বাইসাইকেল ও ব্যাগ এবং বাড়ির ভেতর থেকে মোবাইল, স্যান্ডেল ও মানিব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার সকালে রণজিতের লাশ উদ্ধারের পর ঋণ গ্রহিতা ছানোয়ারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ছানোয়ারকে শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আরিফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধরায় জবানবন্দী দেয় । পলাতক ছানোয়ারের স্ত্রী রোকসানাকে গ্রেপ্তার করতে পারলে আরও অনেক কিছু পাওয়া যাবে বলে পরিদর্শক (তদন্ত ) মোশারফ হোসেন জানান। রণজিৎ দিশা এনজিও’র মির্জাপুর শাখায় সিনিয়র ক্রেডিট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রণজিৎ কুমার রায় ঠাকুরগাঁও জেলার কোষামন্ডল গ্রামের অতুল রায়ের ছেলে। -ডেস্ক