মো: জাকির হোসেন, (দিনাজপুর২৪.কম)নীলফামারীর সৈয়দপুরের সরকারি কারিগরী কলেজের ৮ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র সিরাজুম মনির সাকিব (১৪) কে হত্যার একমাস অতিবাহিত হলেও এখনো কোন আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে এই হত্যাকান্ডের আসামিদের গ্রেফতার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদানের জন্য গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।
শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কে অবস্থিত সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধ কর্মসূচি বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়ে চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এসময় বক্তব্য রাখেন ওই কলেজের শিক্ষক মশিউর রহমান, নীলফামারীয়ান ইয়াং নীলফামারীর রাসেল, পরিবর্তন চাই সংগঠনের সাব্বির হোসেন, ঢাকাস্থ সৈয়দপুর ছাত্র কল্যাণ সমিতির নাজির হোসেন< ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাকির হোসেন বাদল, আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন পরিবর্তন চাই- সৈয়দপুর, ঢাকাস্থ ছাত্র কল্যাণ সমিতি, সৈয়দপুর প্রথম আলো বন্ধুসভা, নীলফামারীয়ান ইয়াং নীলফামারীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা। বক্তারা স্কুলছাত্র হত্যার তীব্র নিন্দা এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
আগামি ২০ জুলাইয়ের কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া না হলে আগামি ২৮ জুলাই কঠোর কর্মসূচি পালন করবেন ছাত্ররা বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন। পরে মানববন্ধনকারীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে স্মারকলিপি প্রদান করে।

সৈয়দপুরে অচল বিমান সচল হলো, উড়াল দিল যাত্রী ছাড়াই
মো: জাকির হোসেন, (দিনাজপুর২৪.কম) সৈয়দপুর-ঢাকা রুটের বাংলদেশ বিমানের পাংচার হওয়া চাকা বদলিয়ে মঙ্গলবার ২ টার সময় ঢাকার উদ্দেশ্যে উড়াল দিয়েছে। তবে কোন যাত্রী ছাড়াই এই বিমান উড়াল দিয়েছে বলে জানান বিমানের জেলা ব্যবস্থাপক আবু আহমেদ।সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট উড্ডয়নের সময় পেছনের চাকা পাংচার হয় এবং বৈদ্যুতিক খুটিতে লেগে কয়েকটি বাল্ব নষ্ট করে। এতে বিমানের যাত্রীরা আতংকিত হয়ে পড়েন। তবে বিমানটি অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
বিমানের ওইসব যাত্রীকে মঙ্গলবার সকালে ইউএস বাংলা বেসরকারি বিমানে ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়া ঢাকা থেকে বিমানের চাকা ও প্রকৌশলী এনে মেরামত শেষে অঢ়ল বিমানটি সচল হয়ে যাত্রী ছাড়াই ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। সৈয়দপুরে বিমান বিকেল ৫টায় অবতরণ করে সাড়ে ৫ টায় উড্ডয়ন করে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার লোহা চুরি বন্ধ হচ্ছে না
মো: জাকির হোসেন, (দিনাজপুর২৪.কম) সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার লোহা চুরি কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। এর সাথে কারখানার বেশ কিছু রাঘব বোয়াল কর্মকর্তা ও রেলশ্রমিক নেতা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে লোহা চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি একটি পাওয়ার ট্রলিতে ৮ ফিট দীর্ঘ ১৪ পিস রেল লাইন পাচার করার সময় সৈয়দপুর বাইপাস সড়কে এলাকাবাসী তা আটক করেছে। খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ সে গুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়েছে। আটককৃত রেললাইনের মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
সৈয়দপুর থানার ওসি ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ট্রলির চালক পালিয়ে যাওয়ায় এই রেললাইন গুলো কার মাধ্যমে পাচার হচ্ছিল তা জানা যায়নি। তবে রাতেই পুলিশের পক্ষে বিসি,ইএল এ্যাট ৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানায়, প্রায় দিন লাখ লাখ টাকার লোহা পাচার করা হচ্ছে কারখানা থেকে। কারখানা থেকে এ লোহাগুলো পাচার করে গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার সময় পথের মধ্যে বেশ কয়েকবার সেগুলো ট্রাক ভ্যানসহ এলাকাবাসী ও থানা পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছে। কিন্ত তার পরেও কারখানায় লোহা চুরি থেমে নেই।
লোহা চুরির সাথে বর্তমানে জড়িয়ে পড়েছে কারখানার বেশ কিছু রাঘব বোয়াল কর্মকর্তা ও কর্মচারী ও রেলশ্রমিক নেতারা। তাদের মাধ্যমে রাতের আঁধারে কারখানার চিহিৃত নিরাপক্তা প্রহরী পাচারে সহযোগীতা করে থাকে। আর এসব লাখ লাখ টাকায় ক্রয় করে থাকে বেশকিছু সিন্ডিকেট গ্র“প। সিন্ডিকেট গ্র“পগুলোর মধ্যে রয়েছে আইনুল, নওশাদ, সুভাস বালতী জা্েবদ ও পাগলী। কারখানা থেকে লোহা চুরির কারনে সৈয়দপুর শহরে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু লোহা লক্বরের দোকান। চোরাই লোহার ব্যবসা করে এরা বর্তমানে হয়েছে লাখপতি থেকে কোটিপতি। কেউ কেউ হয়েছে গাড়ী-বাড়ীর মালিক।

সৈয়দপুরে পোশাকে নকশী তৈরিতে ব্যস্ত নারী কারিগররা

মো: জাকির হোসেন, (দিনাজপুর২৪.কম) ঈদ আসছে। তাই নীলফামারীর সৈয়দপুরে কারচুপি ও বুটিক হাউসগুলোতে ঈদের ব্যস্ততা বেড়েছে। ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে স্থানীয় কারুকর্মী ও কারিগররা এখন পোশাকে বাহারী নকশা তৈরি নিয়ে দম ফেলার ফুরসত নেই। নকশী করা শাড়ি, কামিজ, হিজাব ও বোরখা, ওড়না প্রভৃতি অর্ডার অনুযায়ী ঢাকার ফ্যাশন হাউসসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন।
সৈয়দপুরে শহর ও গ্রামের প্রায় ১০ হাজার নারী কারিগর এসব কাজের সাথে জড়িত রয়েছেন। এসব কারিগর মেশিনে নয়, সূচি কর্মে তৈরি করছেন নজরকাড়া নকশাদার পোশাক। এই শহরে সাবেক পাকিস্তান আমল থেকে কারুকর্মের প্রচলন চলে আসছে। ফলে কারিগর ও সস্তায় শ্রম মেলায় শহর ও গ্রামে গড়ে উঠেছে কারচুপি ও বুটিক হাউস। এর মধ্যে শহরে বড় কারখানা হচ্ছে ‘চম্পা’ কারচুপি হাউস। সেখানে ঈদকে সামনে রেখে ৩০ জন কারিগর দিনেরাতে কাজ করছেন। ঈদকে টার্গেট করে এই প্রতিষ্ঠানটি মাসে ৫০টি শাড়িতে কাজ করে সরবরাহ করছেন।
চম্পা কারচুপি হাউসের মালিক এসএম আলী বাবু জানান, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। তবে মেশিনের তৈরি ভারতীয় লেইস বাজারে আসায় পাথরের তৈরি বুটিকের চাহিদা কিছুটা কমে গেছে। তিনি জানান, এখানে মেশিনে কোনো কাজ হয়না। বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের পছন্দ হতে পারে এরকম ডিজাইন নকশা ও পাথর বসিয়ে শাড়ি সরবরাহ করা হয়। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ডার নিয়েও শাড়ি বা ওড়নার কাজ করে সরবরাহ করা হয়।
সৈয়দপুর কারুশিল্প সমবায় সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, এ শিল্পের প্রসার ঘটায় এলাকার বহু নারী আত্মনির্ভরশীল হয়েছে। সমিতির মাধ্যমে নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রতিািনয়ত এ কাজে নারীদের সংখ্যা বাড়ছে।
এ শিল্পের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ওয়াকিল আহমেদ বলেন, নারীরা এ কাজ করে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করছে। কেউ কেউ ঈদের জন্য সঞ্চয়ও গড়ে তুলেছে। ইতোমধ্যে অর্ডার নেওয়া বেশিরভাগ শাড়ি, কামিজ ও ওড়নার কাজ শেষ করে সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি কারিগরদের মজুরী বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেন, কাজের পরিবেশ সৃষ্টি হলে আরও অনেকে একাজে এগিয়ে আসবেন।