(দিনাজপুর২৪.কম) সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬১ জন। শনিবার সেখানকার একটি ব্যস্ত তল্লাসি চৌকিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরো কয়েক ডজন মানুষ। ঘটনার পর সেখানে উদ্ধারকারীরা গাড়িতে করে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যান। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।

সেখানে কর্মরত অ্যাম্বুলেন্স সেবা আমিন অ্যাম্বুলেন্সের প্রতিষ্ঠাতা আব্দিকাদির আদেন জানান, এখন পর্যন্ত আমরা ৬১ জনের মরদেহ সরিয়েছি। একইসঙ্গে আহত ৫১ জনকে হাসপাতালে নিয়ে গেছি। আফ্রিকার শিং নামে খ্যাত সোমালিয়ায় ১৯৯১ সাল থেকে সহিংসতা চলে আসছে।

সেসময় স্থানীয় গোত্রগুলো দেশটির স্বৈরশাসক সিয়াদ ব্যারেকে উৎখাত করে। এরপর থেকে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ চলেই আসছে সেখানে। এ ঘটনার পর তাৎক্ষনিকভাবে কোনো জঙ্গিগোষ্ঠি হামলার দায় স্বীকার করেনি।

সোমালিয়াতে সবথেকে বেশি হামলা চালিয়ে থাকে আল-কায়দার শাখা ইসলামপন্থী সংগঠন আল-শাবাব। দেশটির সরকারকে হটিয়ে সেখানে শরিয়া আইন চালুর জন্য কাজ করে যাচ্ছে তারা। সোমালিয়ার বর্তমান সরকার জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়ন কর্তৃক স্বীকৃত। এই সরকারকে রক্ষায় সেখানে সেনা মোতায়েনও করেছে জাতিসংঘ। সোমালিয়া ছারাও, কেনিয়া ও উগান্ডায় সক্রিয় রয়েছে আল-শাবাব।

জিহাদি সংগঠনটির চালানো সবথেকে ভয়াবহ হামলাটি ছিলো ২০১৭ সালের অক্টোবরে। মোগাদিসুতে সেসময় বিস্ফোরণ চালিয়ে সংগঠনটি একইসঙ্গে হত্যা করেছিলো প্রায় ৬০০ মানুষকে। শনিবারের হামলাতেও শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আল-শাবাবই এ হামলার পেছনে দায়ি। বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত মানুষরা বাসা-বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসে। সেসময় পুলিশ ফাঁকা গুলি করে বলেও রয়টার্সকে জানিয়েছেন অনেক প্রত্যক্ষদর্শী।

ঘটনায় আহতদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিকটস্থ মদিনা হাসপাতালে। সেখানে কয়েক ডজন মানুষকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের প্রতিবেদক। মোগাদিসুর মেয়র ওমর মুহাম্মদ জানিয়েছেন, সরকার এখন পর্যন্ত ৯০ জন বেসামরিক নাগরিকের আহত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশ কর্মকর্তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। -ডেস্ক