(দিনাজপুর২৪.কম) প্রকৃত তথ্য আড়াল করে বেশি মুনাফা দেখিয়েছে সোনালী ব্যাংক। গত বছর রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকটি নিট মুনাফা দেখিয়েছে ৬০৫ কোটি টাকা। সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবিতে থাকা ব্যাংকটির উদ্যোক্তা শেয়ারের বাজারমূল্য হিসাব করে এখান থেকে মুনাফা দেখানো হয়েছে ৩৮৯ কোটি টাকা। অথচ আইসিবির শেয়ার বাজারমূল্যে না দেখিয়ে ক্রয়মূল্যে দেখানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের এমডিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শিগগির বৈঠক করে কারণ জানতে চাইবে বলে জানা গেছে।

সোনালী ব্যাংক ২০১৪ সালের আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করে গত এপ্রিল মাসে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেয়। সেই আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনা করে সোনালী ব্যাংকের মুনাফা বেশি দেখানোর এ তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আইসিবির শেয়ার বাদ দিলে সোনালী ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফার পরিমাণ দাঁড়ায় ২১৬ কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার দত্ত দিনাজপুর২৪.কমকে বলেন, এর আগের সব আর্থিক বিবরণীতে আইসিবির বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে।

সে ধারাবাহিকতায় এবারও তারা বাজারমূল্য ধরে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করেন। মুনাফায় ফাঁকির উদ্দেশ্যে এমনটি করা হয়েছে তা নয়। এখন বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে। আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সোনালী ব্যাংকের মোট এক হাজার ৪৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনা ছিল। ওই সময় পর্যন্ত আইসিবিসহ ব্যাংকের শেয়ারের বাজারমূল্য ১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। আর আইসিবি বাদে বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৯২৬ কোটি টাকা।

আইসিবির শেয়ারের বাজারমূল্য দেখানোর ওপর যেহেতু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এতে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের নিট লোকসান দাঁড়ায় ১২০ কোটি টাকা। এ পরিমাণ অর্থ অন্য মুনাফা থেকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রেখে এরপর নিট মুনাফার হিসাব করার কথা। তা না করে উল্টো শেয়ারবাজার থেকে ব্যাংকটি ২৬৯ কোটি টাকা মুনাফা দেখিয়েছে। এর সঙ্গে প্রভিশনের ১২০ কোটি যোগ করলে দাঁড়ায় ৩৮৯ কোটি টাকা। প্রাপ্ত তথ্যমতে, আইসিবিতে ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের উদ্যোক্তা শেয়ার রয়েছে সোনালী ব্যাংকের। ডিসেম্বর শেষে যার বাজারমূল্য ৪০৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আইসিবি অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ অনুযায়ী উদ্যোক্তা শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

মূলত একটি সময় আইসিবির শেয়ার বাজারমূল্যেই দেখানো হতো। তবে গত বছরের আগস্টে আইসিবির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি চিঠি দেওয়া হয়। শেয়ার বিক্রির ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখন থেকে বাজার মূল্যের পরিবর্তে ক্রয়মূল্য দেখানোর নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনার পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে শেয়ারে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদনে আইসিবির শেয়ার বাজারমূল্যের পরিবর্তে ক্রয় মূল্যে দেখিয়ে আসছে ব্যাংকগুলো।

আইসিবির উদ্যোক্তা শেয়ারের মাত্র ২ শতাংশ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব মালিকানায়। বাকি ৯৮ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছে সাতটি ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো- সরকারি মালিকানার সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বিডিবিএল এবং বেসরকারি খাতের উত্তরা ও পূবালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, আইসিবির শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ব্যাংকগুলোর শুধু ক্রয়মূল্য হিসাব করার কথা। আর ক্রয়মূল্যের চেয়ে বাজারমূল্য বেশি থাকলে অতিরিক্ত অর্থ ব্যাংক সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ হিসেবে দেখাতে পারবে। যা দিয়ে বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি (এসএলআর) সংরক্ষণ করা যাবে। এরপরও আইসিবিতে সোনালী ব্যাংকের বিনিয়োগের ক্রয়মূল্য না দেখিয়ে বাজারমূল্য দেখানো ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।(ডেস্ক)