(দিনাজপুর২৪.কম) আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মরদেহ আগামীকাল শনিবার দেশে আনা হবে। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় তার মরদেহ দেশে পৌঁছবে। আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহে আরও দুই দফা জানাজা শেষে ওইদিন সন্ধ্যায় ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সন্ধ্যায় সৈয়দ আশরাফের মৃতদেহ সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছবে। সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলের নেতারা তার মৃতদেহ গ্রহণ করবেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃতদেহ ২১ বেইলী রোডস্থ তার সরকারি বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে মৃতদেহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হবে। পরদিন ৬ই জানুয়ারি রোববার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা শেষে হেলিকপ্টারযোগে মৃতদেহ কিশোরগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে এবং দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে আজ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নবনির্বাচিত এমপিদের বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, তার নীতি-আদর্শ-বিনয় আমাদের পাথেয় হবে। সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে আমাদের যে ক্ষতি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তিনি বলেন, লন্ডনে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানার সঙ্গে দুঃসময়ের দিনগুলোয় তিনি পাশে ছিলেন। চরম দুঃসময়ে বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরীদের সঙ্গ দিয়েছেন তিনি। দলের প্রতি সৈয়দ আশরাফের অবদান সম্পর্কে বলতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, পরপর দুবার পার্টির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। দুঃসময়ে পার্টির হাল ধরেছিলেন। শক্ত হাতে দলকে সংগঠিত করেছেন সীমাহীন কমিটমেন্ট নিয়ে। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। গোটা আওয়ামী লীগ পরিবারে শোকের ছায়া। আশরাফ ভাই একজন সজ্জন ও ভালো মানুষ ছিলেন। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে সর্বমহলে তার একটা গ্রহণযোগ্যতা ছিল। ব্যক্তি আশরাফের গ্রহণযোগ্যতা আমাদের দলের সীমানা পেরিয়ে। ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি আরও অনেক দিন আমাদের দলকে সার্ভিস দিতে পারতেন।

উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈয়দ আশরাফ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি এক কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী এবং নেতা-কর্মী রেখে গেছেন। ২০১৭ সালের ২৪শে অক্টোবর সৈয়দ আশরাফুলের স্ত্রী শীলা আহমেদ মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ফুসফুসে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি গত বছরের ১৮ই সেপ্টেম্বর সংসদ থেকে ছুটি নেন। এ অবস্থাতেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়ী হন সৈয়দ আশরাফ। ১৯৫২ সালের ১লা জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। দশম সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন তিনি। এর আগে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্ল¬ী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।  -ডেস্ক