মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (দিনাজপুর২৪.কম)  ১৯৬২ সালে নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রতিষ্ঠিত ৫০ শয্যার হাসপাতালটি ১শ’ শয্যায় উন্নীত করা হলেও চিকিৎসা সেবার মান বাড়েনি। এখানে নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, রোগিরা পাচ্ছেন না চাহিদামতো ওষুধ। এ হাসপাতালে উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র আশ্রয়স্থল। বেড প্রতি বছরে ১ লাখ টাকা মূল্যের ওষুধ বরাদ্দ থাকলেও প্রতিটি রোগীকে হাতে গুজিয়ে দেওয়া হচ্ছে পরামর্শ পত্র। হাসপাতালে  দুর্গন্ধ, ময়লা আবর্জনার পাশাপাশি সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘশ্বাস লক্ষ্যণীয়। জানা যায়, সৈয়দপুর শহরের এ হাসপাতালটি কাগজে-কলমে ১০০ শয্যায় উন্নীত দেখানো হলেও দীর্ঘদিন ধরে ৫০ শয্যার অবকাঠামো নিয়েই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। জনবল সংকটতো রয়েছেই। ১৪ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও চিকিৎসা সেবা চলছে ৪ জন ডাক্তার দিয়ে। হাসপাতালে অভিজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যেন সোনার হরিণের মতো। গাইনী, মেডিসিন, সার্জারী, এ্যানেসথেসিয়া ও নাক, কান গলার অভিজ্ঞ ডাক্তার ছাড়াও নেই কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। যেসব ডাক্তার রয়েছে তাদের মধ্যে শুধু একজনের অভিজ্ঞতার ডিগ্রী রয়েছে। তিনি কর্মস্থলে সঠিক সময়ে আসলেও বাকিরা আসেন খেয়ালখুশি মত। হাসপাতালে রোগীদের সেবা দেয়ার চেয়ে তারা বাইরে প্রাকটিশে ব্যস্ত। তাছাড়া হাসপাতালে এক্সরে মেশিন ও প্যাথলজি বিভাগ থাকলেও রোগীদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাইরের প্যাথলজি সেন্টারে। শুধুমাত্র নিজেদের পকেট ভারি করতে তাদের রয়েছে সুকৌশল।
১০০ শয্যার এ হাসপাতালে ইনডোরে প্রতিদিন ৪০/৫০ ও আউটডোরে আসছেন এক থেকে দেড়শ রোগী। কিন্ত এসব রোগীদের সরকারি বরাদ্দের ওষুধ পাওয়ার কথা থাকলেও তা মিলছে না বলে অভিযোগও রয়েছে। কারণ বরাদ্দকৃত ঔষধের বেশিরভাগই অন্য জায়গায় সরবরাহ হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই হাসপাতালের ওষুধ বেঁচে কেউ কেউ হয়েছেন কোটিপতি। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মঞ্জুয়ারা, নাসিমা ও বেবীসহ বেশ ক’জন রোগী জানান, ডাক্তারী সেবার পাশাপাশি তেমন কোন ওষুধ পাচ্ছেন না তারা। ১০০ শয্যা এ হাসপাতালটিতে কার্যক্রম রয়েছে সেই ৫০ শয্যা হাসপাতালের মতই।
এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুর রহিম জানান, হাসপাতালে ডাক্তারের সঙ্কট রয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে প্রতিমাসে জানানো হয়েছে। রোগীদের সাধ্যমত চিকিৎসা সেবা ও ওষুধপত্র প্রদান করা হচ্ছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। এটির শেষ হলে আরও অনেক রোগীর সেবা দেয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে কথা হয় বর্তমান বিরোধী দলীয় হুইপ আললহাজ্ব শওকত চৌধুরী এমপি’র সাথে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থে আন্তরিকভাবে কাজ করে চলেছেন। অবকাঠামো নির্মাণ চলছে খুব অল্পদিনের মধ্যেই এ হাসপাতালের সকল দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হয়ে রোগীদের শতভাগ সেবা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।