মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (দিনাজপুর২৪.কম) সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবহেলায় রোগীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দায়িত্বরত চিকিৎসকদের যথাসময়ে অনুপস্থিতি, নিয়মিত ডিউটি না করা, নার্স-ওয়ার্ড বয়দের দায়িত্বে অবহেলার দরুন প্রতিনিয়ত দুঃসহ যন্ত্রনায় কাটাতে হয় আগত রোগীদের। বিশেষ করে রাতের বেলা হাজার ডাকাডাকি করেও কাউকে কাছে না পেয়ে চরম কষ্ট করতে হয়।  জানা যায়, জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক কাগজ কলমে উপস্থিত থাকলেও নামমাত্র রোগী দেখে চলে যান এবং বেশিরভাগ সময় থাকেন তাদের নিজস্ব চেম্বারে বা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। তার অবর্তমানে ওয়ার্ড বয় আগত রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দেয়। কিন্তু গুরুতর অসুস্থ রোগী এলে চিকিৎসকের অভাবে রোগ যন্ত্রনায় কাতরাতে থাকেন। এসময় ওয়ার্ড বয় বা দায়িত্বরত নার্স তাদের ওই চিকিৎসকের চেম্বারে বা সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে পাঠিয়ে দেয়। এতে প্রকৃত চিকিৎসা সহায়তা না পেয়ে রোগীরা চরম সংকটে পড়ে যায়। এর পাশাপাশি অনেক রোগী প্রাইভেট হাসপাতালে যেতে অপারগ হলে ওয়ার্ড বয় বা নার্সরা কোন রকমে ভর্তি করিয়ে নেয়। কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থা পত্র ও ওষুধ না পেয়ে আরও বেশি রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। জরুরী প্রয়োজনে নার্স বা ওয়ার্ড বয়দেরকে বার বার ডেকেও যথাসময়ে পাওয়া যায়না। এমনকি ডিউটিকালীন সময়ে অনেক নার্স ঘুমাতে ব্যস্ত থাকেন। গত ২৯ আগষ্ট সরেজমিনে গিয়ে এমন পরিস্থিতির চাক্ষুস প্রমান পাওয়া যায়। ওই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ টার দিকে সৈয়দপুরের পাশ্ববর্তী চিরিরবন্দর উপজেলার দক্ষিণ পলাশবাড়ী গ্রামের মোঃ সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মাহমুদা বেগমকে বুকে প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় নিয়ে ছুটে আসেন তার পরিবারের লোকজন। এসে দেখেন জরুরী বিভাগে কোন চিকিৎসক নেই। এসময় এই প্রতিবেদক ডিউটিরত চিকিৎসকের নাম জানতে চাইলে ওয়ার্ড বয় আসাদ জানান তিনি এখন হাসপাতালে নেই তাই তার নাম জানানো যাবেনা। এসময় নার্স বাবলী রোগী দেখে চিকিৎসা দিতে থাকেন। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ওয়ার্ড বয় মোবাইল ফোনে চিকিৎসককে ডেকে আনেন। তারপর রোগীকে প্রাথমিক চেকআপ করে ওয়ার্ডে নিয়ে গেল দেখা যায় সেখানে দায়িত্বরত কোন নার্সই উপস্থিত নেই। অনেক খোজাখুজি করে তাহসীনা নামে একজনকে পাওয়া গেলেও তিনি ঘুমিয়ে আছেন তাই তাকে ডিস্টার্ব করা যাবেনা বলে ডাকতে নিষেধ করে ওয়ার্ড বয় আসাদ। পরে নার্স তাহসীনাকে জোড় পূর্বক ডেকে উঠালে অনেকটা বিরক্তি নিয়ে নামমাত্র সেবা দেয়।
এসময় একই ওয়ার্ডে চিকিৎসারত রোগী সৈয়দপুর শহরের নয়াটোলা ডিআইবি রোডের ফাতেমা পারভীন অভিযোগ করেন যে, এ হাসপাতালের কর্মরত ডাক্তার ও নার্সরা যেন লাট সাহেব। প্রয়োজনের সময় বার বার ডেকেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়না। বিশেষ করে রাতের বেলা অতি গুরুতর অবস্থায় ডেকেও তাদের সহায়তা পাওয়া যায়না। ফলে চরম রোগ যন্ত্রনা পোহাতে হয়। নার্স বা ওয়ার্ড বয়দের বেশি কিছু বলতে গেলে তারা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে যায় এবং রোগীদের সাথে দূর্ব্যবহারও করে। যা কোন ভাবেই একটি সরকারী হাসপাতালে কাম্য নয়।
এভাবে প্রায় কয়েকজন রোগী একইরকম অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে খোজ নিয়ে জানা যায় এখানে চাকুরীরতদের বেশিরভাগই স্থানীয়। যার ফলে তারা স্থানীয় এমপি, চেয়ারম্যান বা প্রভাবশালী কোন না কোন ব্যক্তির পরিচিতজন বা আত্মীয় স্বজন। সেই অজুহাতে তারা নামকা ওয়াস্তে ডিউটি করে থাকে। তাদের বলার কেউ নেই। হাসপাতালের প্রধান দায়িত্বশীল যিনি তিনিই যখন দায়িত্বে অবহেলা করেন তখন অন্যরা অবহেলা করতে দ্বিধা করবে কেন। অবস্থা এতটাই প্রকট যে এখানে কোন রোগী না এলেই যেন তারা বেশী খুশি হয় এবং নিজেদের ইচ্ছে মত চলতে পারে।
এ ব্যাপারে নীলফামারী সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুর রশিদকে অবগত করা হলে তিনি জানান, এমন কোন ঘটনা আদৌ ঘটার কথা নয়। তবে ঘটনার সত্যতা থাকলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।