(দিনাজপুর২৪.কম) দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় চাইনিজ কোম্পানীর অবহেলায় চেইন ছিড়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ১ জন কর্মচারী। চাকার সঙ্গে জড়িত সকল কাজের জন্য কারখানার সপ ক্যারেজ এন্ড ওয়াগন সপ। সংক্ষেপে সি এন্ড ডব্লুউ বলা হয়। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার এ সপে ট্রেনের কিছু চাকা ফিটিং, রিপেয়ার ও ফিটনেসের কাজ শেষ করে চুড়ান্ত পরীক্ষর জন্য প্যাসেজওয়েতে বসানোর সময় ওই দুর্ঘটনাটি ঘটনাটি ঘটে কয়েকদিন আগে।  সপের সংশ্লিষ্ট সেকশনের সুপারভাইজার মো: আশরাফ জানান, দায়িত্বে থাকা প্রথম শ্রেণীর ফিটার শেখ মহিউদ্দীনকে ক্লিয়ারিং দেয়ার জন্য ওইদিন একবার পরীক্ষা করতে বলেন। তিনি ক্লিয়ারিং দিতে গিয়ে দেখেন, পথের মধ্যেই চেইন-ক্রেন বসিয়ে হেভি ওয়েটের একটি রোলার মেশিন অর্ধতোলা অবস্থায় রয়েছে। নতুন এ মেশিনটি বসানোর কাজ করছে সিএসআর সাইফেন নামের একটি চাইনিজ কোম্পানির বাংলাদেশী এজেন্ট সাবির লিমিটেড।
সূত্রটি জানায়, কোম্পানিটি স্থানীয় অদক্ষ ও ভাড়াটে লেবার দিয়ে কাজ করাচ্ছিল। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী মেশিন বসানোর দায়িত্ব তাদের নিজেদের লোক দিয়ে। মেশিনটি অনেক বড় এবং ওজনও বেশি। অথচ কাজ শেষ না করেই চাইনিজ কোম্পানিটির লোকজন দুপুরের বিরতি দিয়ে চলে যায়। ছিল মাত্র দুই জন লেবার। এ অবস্থা দেখে রেলওয়ের ফিটারু উপস্থিত মিস্ত্রিদের বলেন, এভাবে হেভি ওয়েটের মেশিন অর্ধ তোলা অবস্থায় চেইন-ক্রেনটি লোড নিতে পারবে না যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
একথা বলা শেষ না করতেই চেইন ছিড়ে মেশিনটি পড়ে যায়। ক্রেন ছিঁড়ে যাওয়ায় ৩টি লোহার পোল তিন দিকে ছিটকে পড়ে যায়। একটি পোল ফিটার শেখ মহিউদ্দীনের নাকে, মাথায় এবং কোমরে জোরালোভাবে আঘাত করে। এতে করে তার মাথা ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয় অনেক বেশী। এতে ওই কোম্পানীর  দু’জন লেবার আহত হয়ে স্থানীয় ১শ’ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গুরুতরও আহত রেল কর্মচারী শেখ মহিউদ্দীনকে রেলওয়ের ওয়ার্কস ম্যানেজারের সহযোগীতায় সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ওই দিনই বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ফিটার শেখ মহিউদ্দীনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে  উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার হাতে প্লাস্টার করা হয়। মাথা, ঘাড়, হাত, বুকের এমআর আই, সিটি স্ক্যান, আল্ট্রা সাউন্ড, ও এক্সরে করা হয়। এতে বলা হয়, তার মাথা ফেটে যাওয়ায় অনেক রক্ত বেরিয়েছে। কোমরে প্রচন্ড আঘাতের কারণে হাত-পা নড়াচড়া বন্ধ রয়েছে এবং ডান হাতের কনুতে ফ্রাকচার হয়েছে। নাকে আঘাত পাওয়ায় নাকের কিছু অংশ থেতলে গিয়েছে। মেশিনের চোখা একটি লোহার রডের ওপর পড়ে যাওয়ায় ঘাড়ের দুটি হাড় ভেঙে গেছে।
নিউরো সার্জন ডাক্তার বলেছে, ঘাড়ে থাকা সার্ভিকাল স্পাইনের ৪ ও ৫ নম্বর হাড় ওভার লেপিং হয়েছে। একটির ডিস্ক ফ্রাকচার হয়েছে। হাড়ের কিছু অংশ গুড়ো হয়ে গিয়েছে। এজন্য ঘাড় ছাড়া পুরো শরীর অবশ হয়ে গিয়েছে। শরীরের কোন অঙ্গই নাড়াতে পারছে না। অনুভূতি নেই। পরবর্তীতে জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যায় বহুল অপারেশন করা হয় কাকরাইল ঢাকায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপতালে। ডা: রাজিউল হক নিউরো বিশেষজ্ঞ সার্জন এ অপারেশনটি করেন। তখন থেকে এখন পর্যন্ত তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। ঘাড়ের হাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় তার সমস্ত শরীর অবশ হয়ে গেছে ও শ্বাস কষ্ট হচ্ছে। তার পরিবারের পক্ষে প্রতিদিনের আইসিইউ বিল ২৯ হাজার টাকা করে মিটানো অসম্ভব হয়ে দাঁিড়য়েছে।
এ ব্যাপারে রেলওয়ের সেকশন সুপারভাইজার মো: আশরাফ আলী, সপ ইনচার্জ মোশারারফ হোসেন এবং রেলওয়ে কারখানার ওয়ার্কস ম্যানেজার মো: কুদরত-ই-খোদা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। -(ডেস্ক)