মো. জাকির হোসেন (দিনাজপুর২৪.কম) নীলফামারীর সৈয়দপুরে পাষন্ড স্বামীর দাবিকৃত ৫ লাখ টাকার যৌতুকের শিকার হয়েছেন দুই কন্যার জননী নিঘাত পারভীন। বিয়ের ২৪ বছরেও স্বামীর দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তার উপরে চালানো হয়েছে অমানবিক নির্যাতন। সর্বাঙ্গ থেতলে দিয়ে করা হয়েছে ঘরছাড়া। সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটেছে সৈয়দপুর পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের ক্যান্টনমেন্ট রোড বালাপুকুর এলাকায়। এ ঘটনায় নীলফামারী বিজ্ঞ নারী শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার মৃত এনামুল মজিদের ছেলে এহসানুল কবির দুলালের (৪৮), সানফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষক এর সাথে নয়াটোলা (জামিলা লেন) মহল্লার মৃত বসির উদ্দিনের মেয়ে নিঘাত পারভীনের বিয়ে হয় ১৯৯১ সালে। বিয়ের পর মেয়ের সুখের কথা ভেবে জামাতা দুলালকে নগদ ২ লাখ টাকা উপঢৌকন দেওয়া হয়। সংসার চলাকালীন নিঘাত পারভীন দুই কন্যা সন্তানের মা হন । ছেলে না হয়ে শুধু কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ায় সংসারে অশান্তি ও ঝগড়ার সূত্রপাত ঘটে। কন্যা সন্তান কেন হলো এ কারণে নিঘাত পারভীনকে তার বাবার বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা অথবা বাড়ির জমির ভাগ নিতে চাপ দেওয়া হয়। এতে অপরাগতা প্রকাশ করলে স্বামী দুলালের ভাই ইফতেখার হোসেন বেলাল (৫৫) এর কথামত চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং দাবিকৃত অর্থ না আনলে স্বামীর সংসারে থাকা হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। কিন্ত নিঘাত পারভীন এতেও অপরাগতা প্রকাশ করলে নিঘাতের সর্বাঙ্গ থেতলে দিয়ে বাড়ির বাইরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে পথচারীরা নিঘাত পারভীনকে সজ্ঞানহীন অবস্থায় ভর্তি করায় স্থানীয় ১০০ শয্যা হাসপাতালে। সেখানে ৫ দিন পর কিছুটা সুস্থ হলে স্থানীয় থানা পুলিশের পরামর্শে গত ২৯ জুলাই নীলফামারী বিজ্ঞ নারী শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
নিঘাত পারভীন বলেন, ১৯৯১ সালে বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন চালানো হয়। কিন্ত কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ ও বাবার সম্মানের দিকে তাকিয়ে সব নির্যাতন নিরবে সহ্য করেছেন। নির্যাতনের মাত্রা অসহ্যনীয় হওয়ায় বাধ্য হয়েই আদালতে মামলা দায়ের করেন। তার স্বামী এহসানুল হক দুলাল, ভাসুর ইফতেখার হোসেন বেলাল সহ মামলায় আসামীগণ দুর্দান্ত ও পরধন লোভী। আদালত থেকে মামলা তুলে না নিলে এসিড মেরে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন।