(দিনাজপুর ২৪.কম) সাবেক এমপি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ আলিম উদ্দিন আর নেই। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সৈয়দপুরের নতুন বাবুপাড়ার নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে— রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী, ১ পুত্র ও তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুনগ্রাহি রেখে গেছেন।
তিনি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে ছাত্রাবস্থায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হন এবং ১৯৬৫ সালে সৈয়দপুর থানা ভিত্তিক ছাত্রলীগ রাজনৈতিক শাখা প্রথম সংগঠক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে ঢাকায় অবস্থনকালে কেন্দ্রীয় জাতীয় ছাত্রলীগের সাথে বিশেষ সখ্যতা অর্জন করেন এবং ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। সৈয়দপুর আওয়ামী লীগের কর্মকান্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন এবং স্থানীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ রেলওয়ে কারখানায় (প্রায় ১১,০০০ শ্রমিকের) শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ফলে তৎকালীন সময়ে মূল রাজনৈতিক সংগঠন বেগবান এবং শক্তিশালী হয় ফলশ্রুতিতে মূল রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগকে সক্রিয় এবং জোড়ালো সহযোগীতা করেন ।
১৯৭৩ সালে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তথা জাতীয় পার্লামেন্টি বোর্ডের এমপি প্রাথীরা মনোয়ন লাভ করেন এবং কেন্দ্রীয় ন্যাপ নেতা অধ্যাপক আব্দুল হাফিজ সাহেবকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে সরকারি দায়িত্ব প্রাপ্ত (জাতীয় পরিষদ সংসদ কমিটি) সদস্য ছিলেন। মুজিব সরকারের এমপি হিসাবে পরবর্তীতে মোস্তাক সরকার তাকে বিভিন্ন প্রলোভন এবং প্রতিশ্রুতি দেওয়ায়  তিনি তা ঘৃনা করে দৃঢ়তার সাথে তা প্রত্যাখান করেন এবং এর পরেও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে হাত না মিলার কারণে তার উপর চরম চাপের সৃষ্টি হয়। ফলে তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে থাকতে হয়। পরবর্তীতে তিনি আবার সৈয়দপুরে এসে সৈয়দপুর আওয়ামী লীগ এর সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দলের দায়িত্ব পালন করেন।
তার জীবনের সমাজ সেবা মূলক কর্মকান্ডে মধ্যে ছিল যেমন হোমিওপ্যাথিক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছাড়াও তিনি সৈয়দপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।  তিনি ১৯৪০ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারি জন্মগ্রহণ করেন।