মোঃ জাকির হোসেন, (দিনাজপুর২৪.কম) নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রতিবছর মাছের ঘাটতি বাড়ছে। ১৩৭ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তিসহ অর্ধশত প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাওয়ায় উপজেলায় প্রতিবছর মাছের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে ৩ হাজার ১১৯ মেট্রিক টন। ফলে আমিষ সংকটের কারণে মানুষের মাঝে বিভিন্ন রোগ-বালাই দিন দিন বেড়েই চলেছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভরা মৌসুমেও নদী-নালা, খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মাছের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। সৈয়দপুর উপজেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাসহ গোটা উপজেলার ৩৯টি গ্রামে লোকসংখ্যা ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪৬১টি জন। জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতিবছর মাছের চাহিদা ৪ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন। সেখানে পুকুর, দীঘি ও জলাশয়ে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন মাছ। ফলে প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী ৩ হাজার ১১৯ মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি থাকছে।  সরকারি হিসেবে সৈয়দপুরে পুকুরের সংখ্যা ১৬টি, বেসরকারি দীঘি পুকুরের সংখ্যা ২ হাজার ৫৭৮টি, সরকারি বিলের সংখ্যা ৬টি, নদী  রয়েছে ২টি। উপজেলায় মৎস্যজীবী সমিতি রয়েছে ৭টি, মৎস্যজীবীর সংখ্যা ৩৮১ জন এবং মৎস্য চাষির সংখ্যা ২ হাজার ১২৫টি।  মানুষের সৃষ্টি পরিবেশগত পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রকৃতিতে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ায় এখানকার জলাশয়গুলোতে পড়েছে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব। মাত্র অর্ধশতাব্দী আগেও এ অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল। উপজেলায় লোকসংখ্যার অনুপাতে একজন মানুষের প্রতিবছর প্রায় মাছের নিম্নতম চাহিদা ১৮ কেজি। শিশুদের বাদ দিয়ে প্রতিবছর একজন মানুষ তার চাহিদার বিপরীতে প্রতিবছর মাছ গ্রহণ করতে পারছে ১৬ দশমিক ৬২ কেজি। ফলে একজন মানুষের মাছের ঘাটতি থাকছে ১ দশমিক ৩৮ কেজি। সেই হিসাবে এখানে প্রতিবছর মাছের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে ৩ হাজার ১১৯ মেট্রিক টন।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের স্বাদু পানি মৎস্য চাষ প্রকল্প শহরের উপকন্ঠে কামারপুকুরে গড়ে উঠেছে। সেখানে চাষীদের প্রয়োজনীয় ট্রেনিং ও মিঠাপানির মাছ রক্ষায় করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এই প্রকল্পটি পুরোপুরি কাজ শুরু  করেছে কয়েক বছর আগে। প্রকল্পের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক ড. রাশেদুল হাসান জানান, এখানে টাকি, শিং, মাগুর অন্যান্য দেশি মাছের পোনা উৎপাদন করে চাষিদের সরবরাহ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের অধীনে এই অঞ্চলের ৪টি জেলার ২৮টি উপজেলায়  ১১টি লিয়াজোঁ অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা -কর্মচারিরা কাজ করে যাচ্ছেন।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদ মোশারফ মাছের ঘাটতির কথা স্বীকার করে জানান, উপজেলায় উলে¬খ করার মতো সেরকম দীঘি, পুকুর বা বিল নেই। যে কটি পুকুর দীঘি আছে সেগুলোতে সারাবছর পানি থাকে না। ফলে মৎস্য চাষে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, মৎস্য চাষের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য জেলে ও মাছ চাষি প্রশিক্ষণ, ভিডিও প্রদর্শনী, প্রদর্শনী প¬ট এবং ধান ক্ষেতে শতাধিক মৎস্য চাষ প্রকল্প করে চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। তিনি পরিবারের আমিষের চাহিদা পূরণে মাছ চাষে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জমিতে অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন।