মোঃ জাকির হোসেন ,(  দিনাজপুর ২৪.কম)ঐতিহ্যবাহী ও পুরানো মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তুলশীরাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। নীলফামারীর সৈয়দপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে ভৌত অবকাঠামো সুবিধা, শিক্ষকদের আবাস ও ছাত্রীদের থাকার হোস্টেল, প্রশস্থ খেলার মাঠ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সম্বলিত গবেষণাগারসহ প্রতিবছর জেএসসি ও এসএসসিতে ঈর্ষনীয় ফলাফল করলেও সরকারিকরণ করা হচ্ছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী হতাশায় ভুগছেন। নারী শিক্ষার একমাত্র স্বতন্ত্র শতবর্ষী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তাই সরকারিকরণে জোর দাবি উঠেছে।
উত্তরের বাণিজ্যিক ও ব্যবসা প্রধান সৈয়দপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র চাঁদনগরে তুলশীরাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯১৪ সালে স্থাপন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ তুলশীরাম আগরওয়ালা এটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদান রেখে চলেছে। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে সভাপতি পদে গন্যমান্য ব্যক্তি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করলেও সরকারিকরণে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।
উপজেলায় একমাত্র বালিকা বিদ্যালয়টি ২.৮৩ শতক জমির প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়ে ১১টি কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল ভবন ২টি, ১৪ কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবন ২টিসহ শ্রেণি কক্ষের সংখ্যা ২২টি। শিক্ষকদের আবাসন ও ছাত্রী নিবাসে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে দুল-দূরান্তের ছাত্রীরা অবস্থান করে লেখাপড়া চালিয়ে নিতে পারেন।
আধুনিক পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতিসহ রয়েছে গবেষণাগার। রয়েছে সমৃদ্ধ লাইব্রেরী। প্রধান শিক্ষকের বসবাসের জন্য ৫ কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবনও রয়েছে। সুসজ্জিত কম্পিউটার ল্যাব ও বিশুদ্ধ পানিসহ ওয়াশরুম রয়েছে ৫টি। প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে প্রশস্থ খেলার মাঠ ও চিত্তবিনোদনের জন্য বোটানিক্যাল গার্ডেন। সুরক্ষিত সীমানা প্রাচীর দ্বারা বিদ্যালয়টি পরিবেষ্টিত। বিগত বছরগুলোতে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা প্রায় শতভাগ পাশের কৃতিত্ব রেখেছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৫ শতাধিক ছাত্রী লেখাপড়া করছেন এবং ১৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত রয়েছেন।
সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের ঘোষণা দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। এনিয়ে উপজেলাগুলোতে যাচাই-বাছাইও চলছে। সেই বিবেচনায় সৈয়দপুরের একমাত্র স্বতন্ত্র নারী শিক্ষার প্রতিষ্ঠান তুলশীরাম বালিকা বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের জোর দাবি উঠেছে। দাবির সমর্থনে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালনে মাঠে নামবেন বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আমিনূর রহমান জানান, শতবর্ষী মাধ্যমিকে নারী শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানে সরকারীকরণের সকল সুযোগ- সুবিধা রয়েছে। কিন্ত সরকারিকরণ না করায় শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষ হতাশায় ভুগছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফিরোজ উদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার নারী শিক্ষায় যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিয়ে উপবৃত্তিসহ নানা সুযোগ- সুবিধা দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নারীদের এগিয়ে নেয়ার কথা বিবেচনায় নিয়ে শতবর্ষী তুলশীরাম বালিকা বিদ্যালয়টিকে সরকারিকরণে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করেন তিনি।

সোনাপুকুর বাসস্ট্যান্ড হতে দেবীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ইজিবাইকচালানোর

অনুমতি প্রদানের দাবিতে সমাবেশ ও মন্ত্রীকে স্বারকলিপি প্রদান

মোঃ জাকির হোসেন ,(  দিনাজপুর ২৪.কম)সোনাপুকুর বাসস্ট্যান্ড হতে দেবীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ইজিবাইক চালানোর অনুমতি প্রদানের দাবিতে সৈয়দপুর জোনভুক্ত অটোবাইক শ্রমিক কল্যান সোসাইটির উদ্যোগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এ্যাড. মোস্তাফিজার রহমান ফিজারকে স্বারকলিপি দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী পার্বতীপুরে আসতেছেন সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক গত রবিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সোনাপুকুর বাসস্ট্যান্ডে সমবেত হয়ে অটো শ্রমিকরা সকল অটো বন্ধ রেখে অবস্থান করেন। এসময় সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আলহাজ্ব আঃ সোবহান প্রামানিক এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বেলাইচন্ডী ইউপি চেয়ারম্যান কৃষিবীদ নুর মোহাম্মদ (রাজা), সাবেক ইউপি সদস্য দুলাল, সোসাইটির সভাপতি জালাল উদ্দিন আপন, সাধারণ সম্পাদক আঃ রাজ্জাক, সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী। সমাবেশ শেষে বিভিন্ন দাবি সংক্রান্ত স্বারকলিপি মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট পেশ করার জন্য বেলাইচন্ডী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কৃষিবীদ নুর মোহাম্মদ (রাজা) এর হাতে তুলে দেয়া হয়। স্বারকলিপিতে অটোবাইক শ্রমিকদের পক্ষ্য থেকে যেসব দাবি জানানো হয় তা হলো- মহাসড়কে অটোবাইক (তিন চাকার যানবাহন) চলাচলের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সোসাইটির ২৫০ জন সদস্য অটোবাইক চালক/শ্রমিক এর হতদরিদ্র পরিবারের রুজি-রুটির পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে অনেক ঋণ করে কষ্টের মধ্যে দিয়ে সংসার পরিচালিত করছে তারা। এমতাবস্থায় সোনাপুকুর বাসস্ট্যান্ড থেকে পশ্চিম দেবীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত মাত্র ২ কিলোমিটার মহাসড়কে অটোবাইক চালানোর অনুমতি প্রদান করে এই অসহায় গরীব চালক ও শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করা হয়।

ফলোআপ
পুলিশ সেদিন কোন অভিযানে গিয়েছিল
নিহত পুলিশের দাফন সম্পন্ন

মোঃ জাকির হোসেন ,(  দিনাজপুর ২৪.কম)নীলফামারীর সৈয়দপুরে অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় ৪পুলিশ নিহত ও ৭ জন আহতের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল রবিবার থেকে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে  শনিবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সৈয়দপুর থানার এসআই নাজমুল হোসেন, এএসআই আব্দুল আজিজ, এস,এ,এফ কনস্টেবল (নম্বর ৫১৫) সাদ্দাম হোসেন , এস,এ,এফ কনস্টেবল (নম্বর ৫১৬) রিপন চন্দ্র চৌধুরী সহ ৪জন কে ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ঢেলাপীর রেলক্রসিং সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দা আকাঁ মিয়া জানান, জেলার ডোমার উপজেলার  চিলাহাটি থেকে নীলফামারী হয়ে প্রতিদিনের ন্যায় আন্তঃনগর নীলসাগর ট্রেনটি ঢাকায় যাচ্ছিল। ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা বিলম্বে রাত ১২টায় রেলক্রসিং পার হচ্ছিল। এ সময় বিকট একটি শব্দে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি ট্রেনটি চলে গেলেও রেলক্রসিং এর ধারে ১৫ ফিট গর্তে গাড়ীর লাইট জ্বলতে দেখে ছুটে গিয়ে দেখি পুলিশের একটি পিকআপ গাড়ী দুমড়ে মুচড়ে পড়ে রয়েছে। কিছুক্ষন পর সেখানে পেছনে আসে মটরসাইকেলে দুইজন পুলিশ সদস্য। তারা ঘটনা দেখে বিভিন্ন স্থানে খবর দিলে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ ও সৈয়দপুর থেকে ফায়ার সার্ভিস এসে পুলিশের ওই গাড়ী থেকে তাদের উদ্ধার করে। এদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলে মারা যায়।
তিনি বলেন, ঢেলাপীর রেলক্রসিং এ কোন গেট বা গেটম্যান নেই। এখানে রেলক্রসিং এর উভয় পার্শ্বে রেলওয়ে কর্ত”পক্ষ এ জন্য একটি নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে। এতে উল্লেখ রয়েছে, এই রেলক্রসিং এ কোন গেট বা গেটম্যান নেই। যানবাহন ও পথচারী  সর্তকতা অবলম্বন করে নিজ দায়িত্বে পারাপার করবেন। কোন দূর্ঘটনা বা ক্ষতি হলে রেলকর্তৃপক্ষ দায়ি থাকবেনা। তিনি বলেন ট্রেনটি নির্দিষ্ট ও ঠিক সময়ে চলাচল করলে এই দুর্ঘটনা ঘটতো না। ট্রেনটি বিলম্বে চলার কারনে ওই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
সৈয়দপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার এ,এম,এস সাজেদুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের একটি ডাকাতের দল কে ধরতে বিশেষ অভিযানে সৈয়দপুর থানার ওসির নেতৃত্বে ১৩ জনের একটি পুলিশের দল শুক্রবার রাতে ঘটঁনাস্থলে রওনা দেয়। এদের মধ্যে পুলিশের পিকআপে ওসি সহ ১১ জন ও একটি মটর সাইকেলে ২ জন ছিল। পথে ঢেলাপীর রেলক্রসিং পুলিশের পিকআপের সংঘর্ষ হয়। তবে মটরসাইকেলে থানা দুই পুলিশ সদস্য এই দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায়। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ হাসান ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী সহ তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে দেখা যায় ঘটনাস্থলে কনস্টেবল শামসুল হক (৪৭) ঘটনাস্থ’লে মারা যায়। বাকীদের প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শর্য্যা হাসপাতালে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এ সময় পথে কনস্টেবল মাইদুল ইসলাম( ৩০) ও শরিফুল ইসলাম(৩৪) এবং রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীস অবস্থায় শনিবার ভোরে কনস্টেবল  ফারুক হোসেন (৫০) মারা যায়।
নীলফামারী  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ হাসান জানান, রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ৪ জন আশংকাজনক অবস্থায়  শনিবার দুপুরে ঢাকায় সড়ক পথে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এ ছাড়া সৈয়দপুর থানার ওসি সহ ৩ জন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে শনিবার দুপুরে বাদ জোহর নীলফামারী পুলিশ লাইনে নিহতদের নামাজে জানাজা শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ লাইনের আরআই আনোয়ার হোসেন জানান, নিহতদের মধ্যে কনস্টেবল শামসুল হকের লাশ তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্ব্বতীপুর উপজেলার পাওয়ার হাজ্বী কলোনী গ্রামে, কনস্টেবল মাইদুল ইসলামের লাশ কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নেওয়াশী হাতির ভিটা গ্রামে, কনস্টেবল শরিফুল ইসলামের লাশ দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামে ও কনস্টেবল ফারুক হোসেনের লাশ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলা বীরপাশা গ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এসব নিজ গ্রামে তাদের দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়। এ জন্য নীলফামারী পুলিশের পক্ষে সকল প্রকার সহযোগীতা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ঢেলাপীর রেলক্রসিংয়ে পুলিশের পিকআপ ভ্যানের সাথে ঢাকাগামী একটি চলন্ত ট্রেনের সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের শরীর থেকে হাত ও পা বি”িছন্ন হয়ে গেছে। আহত হয়েছে সৈয়দপুর থানার ওসি সহ ৭ জন। শুক্রবার  রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে সৈয়দপুর থানার কনস্টেবল শামসুল হক (কনস্টেবল নম্বর-২৮৫) ঘটনাস্থলে এবং রংপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই মাইদুল ইসলাম (কনস্টেবল নম্বর-৩৭৫) ও শরিফুল ইসলাম (কনস্টেবল নম্বর-৬৮৫), এবং শনিবার ভোরে ফারুক হোসেন (কনস্টেবল নম্বর ৪২০) মারা যায়। আহতদের মধ্যে ছাড়া রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সৈয়দপুর থানার ওসি ইসমাইল হোসেন, গাড়ী চালক কনস্টেবল (নম্বর ৫৮২) মোকছেদ আলী, কনস্টেবল (নম্বর ৭২০) কবির হোসেন সহ ৩ জন। জেলা পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সৈয়দপুরে গরু চুরির অভিযোগে ৯ জন আটক
মোঃ জাকির হোসেন ,(  দিনাজপুর ২৪.কম) নীলফামারীর সৈয়দপুরে গত রবিবার গরু চুরির অভিযোগে ৯ জন কে আটক করেছে সৈয়দপুর থানা পুলিশ। সৈয়দপুর থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ফাতেমা বেগমের একটি গাভী তার আধিয়ার পাশ্ববর্তী হাজীপাড়ার খালেকের বাড়ি থেকে চুরি যায় গত বৃহঃবার রাতে। বিষয়টি পরদিন ইউপি চেয়ারম্যান ছাইদুর রহমান সরকারকে জানালে তিনি শুক্রবার রাতে এলাকার চোরদের ডেকে এনে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটক করে রেখে মারধর করে। এবং ভয়ভিতি দেখিয়ে বলে গরু চুরির কথা স্বীকার না করলে পুলিশের হাতে তুলে দেবে।  সৈয়দপুর থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশের টহল দলটি ঢেলাপিরহাট থেকে পোড়ারহাটে অবস্থিত ইউনিয়ন পরিষদের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় ওই রেলক্রসিং পার হতে গেলে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগতির ঢাকাগামী আন্তঃনগর নীলসাগর ট্রেনটি সে সময় পুলিশের পিক আপটিকে ধাক্কা মারে। ফলে চুর্নবিচুর্ণ হয়ে দুরে ছিটকে পড়ে পিকআপ ভ্যানটি। এতে ৪ পুলিশ সদস্য নিহত হয়। এই ঘটনার পরদিন (১৬ আগস্ট) রাতে থানা পুলিশ বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে চোর সন্দেহে আটক করে। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন আকতার(৫৫), সেলিম (৩৫), মোঃ আলী (২৬), এনামুল হক(৪০), আনোয়ার হোসেন (৩৫), রশিদুল ইসলাম (৩৫), সাউদুল (৪০), মনতাজ (২৮) ও ঘেগা(৩০)। পরে তাদের নীলফামারী জেলহাজতে প্রেরন করা হয়। আটককৃত আক্তারের স্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামীকে ঘুমন্ত অবস্থায় থানা পুলিশ ধরে নিয়া যায়। এব্যাপারে বোতলাগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ছাইদুর রহমান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

নীলফামারী জেলা সরকারী খাদ্য গুদাম শ্রমিক লীগের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
বস্তা লোড-আনলোড মজুরী ন্যুনতম ৬ টাকা নির্ধারণের দাবি

মোঃ জাকির হোসেন ,(  দিনাজপুর ২৪.কম) নীলফামারী জেলা খাদ্যগুদাম শ্রমিকলীগ জেলা কমিটির এক সভা গত ১৮ আগষ্ট সৈয়দপুর খাদ্যগুদাম কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা খাদ্যগুদাম শ্রমিকলীগের সভাপতি মোঃ জিকরুল হক। সভাটি পরিচালনা করেন সৈয়দপুর খাদ্যগুদাম শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলজার হোসেন। সভায় জেলা কমিটির সভাপতি বলেন, দীর্ঘ প্রায় দশ বছর থেকে শ্রমিকদের বস্তা লোড আনলোড বাবদ মাত্র আশি পয়সা মজুরী দিয়ে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। যার ফলে খাদ্য গুদামে কর্মরত শ্রমিকগণ অর্ধাহারে অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে। শ্রমিকরা দীর্ঘসময় ধরে তাদের মজুরী বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন দপ্তরে চিঠিপত্র প্রদান করেও কোন ফল না পেয়ে একাধিকবার কাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞায় টেন্ডার না হওয়ায় শ্রমিকদের মজুরী নির্ধারণ করা যাচ্ছেনা বলে খাদ্যগুদাম স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের জানিয়ে কাজ চালু রাখার পরামর্শ দেন এবং বলেন নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে টেন্ডার দেওয়া হবে এবং মজুরী বৃদ্ধি করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন। অসহায় শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে নাম মাত্র ঐ ৮০ পয়সা মূল্যে বস্তা লোড আনলোড কাজ করতে বাধ্য হয়। বর্তমানে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় নীলফামারী জেলার ৭টি খাদ্য গুদামে ঠিকাদার নিয়োগ টেন্ডার দেয়া হয়েছে। আগামী ২৪ আগস্ট ওই টেন্ডার দাখিল করা হবে। কিন্তু এবারও শ্রমিকদের মজুরী নির্ধারণ নিয়ে চলছে ধুম্রজাল। তাই শ্রমিকরা লোড আনলোড মজুরী প্রতিবস্তা ন্যুনতম ৬ টাকা হারে নির্ধারণ করার দাবী জানিয়ে বলেন, এর ব্যত্যয় ঘটলে জেলার ৭টি খাদ্য গুদামে লোড আনলোড, ওয়াগীন খালাস সহ সকল প্রকার কাজ বন্ধ করে দেয়া হবে বলে হুসিয়ারী দেয়া হয় এবং এ ক্ষেত্রে যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন বলে সভায় বক্তারা বলেন। সভায় বক্তারা আরও বলেন, আগামী ২৪ আগস্ট জেলার ৭টি খাদ্য গুদামের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ঐদিনই সর্বনিম্ন দরদাতাকে ঠিকাদার নিয়োগ কার্যাদেশ প্রদান করা হবে। কিন্তু টেন্ডারে শ্রমিকদের মজুরীর দর নিয়ে একটি মহল সিন্ডিকেট তৈরী করেছে। যদি কোন টালবাহানা, ঘাপলা বা শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি/নির্ধারণ নিয়ে কোন প্রকার ষড়যন্ত্র করা হয় তবে এর দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে বলে সভায় হুসিয়ারী উচ্চারণ করা হয়।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য বলেন, সৈয়দপুর খাদ্যগুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা ও দৈনিক মুক্তভাষা পত্রিকার প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ, সহসভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ জহির, সাংগঠনিক সম্পাদক আঃ হামিদ, সদস্য মোঃ আকছার আলী, ফেরদৌস রহমান, মোঃ আলম, মোকছেদুল, কামাল ও ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।