(দিনাজপুর২৪.কম) আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় হতদরিদ্র জনগণের জন্য ৪২ হাজার ৬৩৪ জনের জন্য ৪২৬ দশমিক ৩৪০ মেট্রিক চাল ৩ হাজার ৮৯৪ মেট্রিক টন এবং পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২১ জনের জন্য ৪৬ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন খাদ্যশষ্য বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। রমজান মাস জুড়ে এ চাল উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার উল্লেখিত জনের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। এসব কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অধিকাংশ দলীয় লোক, অসাধূ জনপ্রতিনিধিসহ হোমড়া-চোমড়াদের পকেটে গেছে। এতে করে দু:স্থ অভাবী মানুষ চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছে অথবা পেলেও পরিমাণে কম দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সৈয়দপুরে বিপুল কর্মহীন মানুষ ও ভিজিএফ বঞ্চিত হতদরিদ্র মানুষ এবারে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা খুবই কষ্টে আছে। গ্রামে চুরি ও ছিনতাই দিন দিন বেড়েই চলছে। হাতে কোন কাজ নেই এমনটি বলছেন শ্রমিকরা। গ্রাম ও জনপদের লোকের একটাই উত্তর ভালো নেই। কিষান, মজুর, অর্থনৈতিক মন্দায় ভুগছে।  অপরদিকে বিভিন্ন এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের অভাবী মনুষেরা।
উপজেলার কামারপুকুর, বোতলাগাড়ি, খাতামধুপুর, কাশিরাম বেলপুকুর, বাঙ্গালিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় এরকম চিত্র। আর সবারই একই কথা ভাই ভালো নেই। সামনে ঈদ বউ বাচ্চাকে নতুন কাপড় তো দূরে থাক ঠিকমত তিন বেলা বাচ্চাদের খেতে দিতে পারি না।  তাদের একটাই কথা কাজ নেই। প্রতিদিন শত শত মানুষ ইউপি অফিস ও মেম্বার, চেয়ারম্যান এবং বিত্তবানদের বাড়িতে ভিড় করছে । কাজের সন্ধানে অনেকে গ্রাম থেকে শহরে আসতে শুরু করেছে এবং বেঁচে নিচ্ছে সহজলভ্য কাজ রিক্সা চলা।
এরই মধ্যে একশ্রেণীর অসাধু লোক তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ওইসকল মজুরদের দিচ্ছে সুদের টাকা। খবর নিয়ে জানা যায়, এক শ্রেণীর দাদন ব্যবসায়ী এ সময়টা কাজে লাগায় কারণ এটাই নাকি তাদের সিজন। এক হাজার টাকায় প্রতি মাসে ২শ’ থেকে ১শ ৫০ টাকা লাভ দিয়ে টাকা নিচ্ছে। তাই সংসারের প্রয়োজনে তারা এই কড়া সুদে টাকা নিচ্ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অনেকে আবার অভাবের তাড়নায় খাদ্যাভাস বদলাতে শুরু করেছে। বছর খানেক আগে যে আটার দাম ছিল ১৩ থেকে ১৪ টাকা সে আটার দাম কেজি প্রতি ৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে সময় নিম্ন আয়ের মানুষ আটার রুটি খেত এখন আটার রুটি খাদ্য হচ্ছে বিত্তবানদের।
গ্রামে ধার-দেনাও পাওয়া যাচ্ছে না। এমনি এক পরিস্থিতিতে কথা হয় কয়েকজন রিকশা শ্রমিকের সাথে। তারা জানায়, ভাই একটা বড় দুঃখের কথা ‘হামরা গেল বছর কুরবানিত গরুর গোস্ত খাছি আর গোস্ত কিনিবার পাই  নাই’ হামরা এবার ছাওয়া ছোটক (ছেলে মেয়েক) নিয়া ঈদ করিবার পারমোনা। কারণ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সঙ্গে গরু মাংস যেন গরীবদের কাছে আকাশ-কুসুম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই তিন বেলার পরিবর্তে দুবেলা এক বেলা খেয়ে কোন রকমে দিন কাটাচ্ছে। এমনি অবস্থায় তাদের ঈদ মেলান হতে বসেছে।
হতদরিদ্র অভাবী মানুষের জন্য সরকারের কর্মসংস্থান কর্মসূচি, বিধবা ও বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফ কর্মসূচি তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম-দুর্নীতি, বিলি-বন্ঠনে স্বচ্ছতার অভাব, প্রতিটি কাজে দলীয় লোকের প্রচ্ছন্ন ছায়া ও বেশির ভাগ অভাবী মানুষ এসব কর্মসূচির বাইরে থাকায় সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলছে।
সৈয়দপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান,  ঈদ উপলক্ষে সৈয়দপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৪২ হাজার ৬৩৪ জনের জন্য ৪২৬ দশমিক ৩৪০ মেট্রিক চাল এবং সৈয়দপুর পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২১ জনের জন্য ৪৬ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত খাদ্যশষ্য এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে এই খাদ্যশষ্য সুষ্ঠুভাবে হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।  -(মো. জাকির হোসেন )