(দিনাজপুর২৪.কম) দেশে নভেল করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। এ নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৫।

দেশে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৯ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭ জন। সারাবিশ্বের মত ইতিমধ্যেই করোনা আতঙ্কে তটস্থ হয়ে আছে বাংলাদেশও।

করোনাভাইরাস ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী একটি মহামারির নাম। কোভিড-১৯ অন্যান্য ভাইরাসের চেয়ে অপেক্ষাকৃত বড় এবং ছোঁয়াচে, মানুষ থেকে মানুষে অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তাই এর সংক্রমণ ছড়াতে পারে সেলুন থেকেও। এক্ষেত্রে সেলুনে গেলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, দাঁড়ি কাটার সময় যে যন্ত্রপাতি ব্যবহার হয়, তা থেকেও সংক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে চুল বা দাঁড়ি কাটার সময় জলের যে স্প্রে ব্যবহার করা হয়, তার থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। তবে, সেলুন ও বিউটি পার্লারের যন্ত্রপাতিগুলো জীবাণুমুক্ত করলে সংক্রমণ রোধ সম্ভব বলে মত তাদের।

আপনি জানেন একজনের জিনিস অন্য জনের ব্যবহার করা উচিৎ নয়। এতে একজনের শরীরের জীবাণু অন্যের শরীরে চলে যায়, সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

আপনি যখন চুল কাটাতে বা শেভ করাতে নাপিতের কাছে যান, নাপিত তখন আপনাকে অন্যের ব্যবহার্য ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে একটা কাপড় বা তোয়ালে আপনার গলায় পেঁচিয়ে দেন, এতে আপনার শরীরে অন্যের জীবাণু প্রবেশ করবে।

তারপর চিরুনির ক্ষেত্রেও বিধি-নিষেধ রয়েছে। বাসায় আপনার যে চিরুনি শুধু আপনারই। কিন্তু সেলুনের দোকানে নাপিত আপনার মাথায় যে চিরুনিটি ব্যবহার করছে, সেটাও কিন্ত আপনার আগে অন্য জনের মাথায় ব্যবহার করেছে। এতেও আপনার শরীরে জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে।

এছাড়াও অন্যের ব্যবহার্য জিনিসের মাধ্যমে অন্যের কাছ থেকে আপনার মধ্যে চলে আসতে পারে হেপাটাইটিস, এইডসসহ অনেক ভয়ঙ্কর রোগের ভাইরাস। সেলুনের মাধ্যমে উকুন ছড়িয়ে পড়াও খুব কমন।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিক্যুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. খালেদ হোসেন বলেন, ‘সেলুনে অনেকে চুল-দাঁড়ি কাটাতে আসেন। একই ক্ষুর, ব্লেড, কেঁচি, সেলুন অ্যাপ্রোন এবং তোয়ালে অনেকের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে যদি কেউ কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত থাকেন, আর তার ব্যবহৃত জিনিস অন্যজন ব্যবহার করেন, তাহলে ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।’

শুধু সেলুন, বিউটি পার্লার নয়, বর্তমানে সর্বসাধারণ ব্যবহার করে এমন সবকিছুর ক্ষেত্রেই সর্বাত্মক সচেতন থাকার কথাও বলেন তিনি।

অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম আযম বলেন, ‘যেকোনো সূক্ষ্ম বস্তু দিয়ে কাজ করতে গেলে এই ঝুঁকি বেড়ে যায়। যেমন- সেলুনে শেভ করতে গেলে, চুল কাটাতে গেলে তো ক্ষুর-কাঁচির ব্যবহার হয়, এটি থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে, রক্তের মাধ্যমে। সেই ক্ষেত্রে আমরা যদি নিজেই শেভিংয়ের অভ্যাস করি, সেটা তো অবশ্যই ভালো।’

‘আর সেলুনে করলে আমার মনে হয় সে নিজস্ব কিছু যন্ত্রপাতি কিনে নিয়ে, সেটিই বারবার সঙ্গে নিয়ে গেলো, সেটি ব্যবহার করল। এতে ভালো হয়। অথবা যারা সেখানে আছেন, তাদের উচিৎ হবে প্রত্যেকের জন্য আলাদা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা। শল্যচিকিৎসায় যেমন জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতি রয়েছে, সেখানেও কিছু জিনিস এমন জীবাণুমুক্ত করা যায়। আমার মনে হয় এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আইনকানুন দিয়ে কিছুটা পর্যবেক্ষণ করা উচিৎ’, বলেন তিনি।

গত ১২ মার্চ ওয়াশিংটনপোস্টে যেন্না ব্রিচের করা এক প্রতিবেদনে বল স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের সহযোগী চেয়ার ও অধ্যাপক জগদীশ খুবচন্দানি বলেন, ‘করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ সেলুনের মতো জায়গায় ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে। যদি আপনি কোনো ক্লায়েন্টের সুগন্ধি বা শরীরের গন্ধ পেতে পারেন, তবে আপনি সংক্রমণ অর্জনের জন্য যথেষ্ট কাছে রয়েছেন। এতে আপনার চরম সতর্কতা প্রয়োজন।’

সেলুনে যাওয়ার পূর্বে আপনার ত্বক চেক করুন। ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করতে সেলুনে যাবেন না। যদি আপনার ত্বকে কোনো কাটাছেড়া থাকে, তাহলে এটি ইনফেকশনের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। আঁচড় বা ফোড়ার ক্ষেত্রেও এ সাবধানতা অবলম্বন করুন।

সবারই উচিৎ দেশের এই ক্রান্তিকালে সচেতনতার পাশাপাশি সাবধান হওয়া, যাতে নিজেও সুস্থ থাকা যায় এবং অন্যকেও সুস্থ রাখা যায়। -ডেস্ক