সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার সন্ধিগ্ধ আসামি সুমন হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। আটক আশরাফুল মোল্যা ওরফে সুমন আর্মি ওরফে সুমন হাসান ওরফে সুমন মোল্যা ওরফে আশরাফুল ইসলাম নড়াইলের সদর উপজেলার বোড়ামারা গ্রামের আকবর মোল্যার ছেলে।

আটকের সময় পুলিশ ৪টি সেনাবাহিনীর ভূয়া আইডি কার্ড, ৩টি ভূয়া জাতীয় পরিচয় পত্র, ১টি কাপ, ১টি সেনাবাহিনীর নেমপ্লেটসংযুক্ত জ্যাকেট, ১টি স্যুয়েটার, ১৩টি সিম কার্ড, ১টি ম্যামোরি কার্ড (যার মধ্যে একাধিক ধর্ষণের ভিডিও ধারণ) ও ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।

সোমবার গভীর রাতে পুলিশ আটক করলেও মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাঘারপাড়ার একটি ধর্ষণ মামলা আসামি আটকের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) তহিদুল ইসলাম ও যশোর ডিবির ওসি মারুফ আহম্মেদের নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী অফিসার গোয়েন্দা পুলিশের এসআই অরুন কুমার দাস, এসআই শামীম হোসেন সোমবার গভীর রাতে যশোর শহরের শংকরপুর জমাদ্দারপাড়ায় অভিযান চালিয়ে রওশন আলীর বাড়ি থেকে সুমনকে আটক করে।

আটকের পর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে সুমন স্বীকার করেছে, ঝিকরগাছা উপজেলার কলেজ ছাত্রীকে বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া গ্রামে নিয়ে ধর্ষণ, ধর্ষণের ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে ওই কলেজ ছাত্রীর পিতার নিকট ২ লাখ টাকা দাবি করেছে।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানার ২টি (মামলা নম্বর ২২, তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০১৬, ও মামলা নম্বর ১৪, ১৫ জুলাই ২০১৪) রাজশাহী বাঘা থানায় ১টি (মামলা নম্বর ১, তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৫) এবং যশোর কোতয়ালি মডেল থানার একটি (মামলা নম্বর ১১৩, তারিখ :২৬ অক্টোবর২০১৭) প্রতারণার মামলা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যশোর ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহম্মেদ জানান, আটক সুমন বিভিন্ন ভাবে প্রতারণার মাধ্যমে দুই ডজন নারী ধর্ষণ করেছে। ্উদ্ধার মেমোরি কার্ডে অধিকাংশ ধর্ষণের ভিডিও দৃশ্য রয়েছে।

এসব ভিডিও দৃশ্য দেখিয়ে ধর্ষিতার অভিভাবকদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে আসছে। তার পরিচয় সঠিক ভাবে না পাওয়া এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তার পরিচয় দেয়ায় মানসম্মানের ভয়ে টাকা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ নারীরা ঝামেলা মিটিয়েছে। আর ধর্ষণের শিকার অধিকাংশই কলেজ ছাত্রী বলে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তহিদুল ইসলাম জানান, সুমনের ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায় এবং ভালোবাসার নাটক সাজিয়ে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে অভিভাবকের নিকট মোটা অংকের টাকা আদায়ের ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি দাবি করেন। -ডেস্ক