(দিনাজপুর২৪.কম) চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেল লাইনের ঝুঁকিপূর্ণ ২৪নং সেতু সাকিরাপুল ভেঙ্গে তেলবাহী ওয়াগনট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৩বগি বোয়ালখালী খালে পড়ে গতকাল শুক্রবার দুপুরে। ওয়াগণট্রেনের তেল পানিতে তেল ছড়িছে পড়ায় দুষণ ও পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার ঘটনাস্থল সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদল, চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মকবুল হোসেন ও রেলওয়ের মহা ব্যবস্থাপক (পূর্বাঞ্চল) মোজাম্মেল হক পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া তদন্ত কমিটির প্রধান বিভাগীয় প্রকৌশলী চট্টগ্রাম -১ আবিদুর রহমান ঘটনাস্থলে রয়েছেন। মূলত বিকেল থেকেই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট যোগ দিয়েছে। বিকেল ৬টার দিকে কুলাউড়া থেকে আগত রিলিফ ক্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
বিভাগীয় প্রকৌশলী চট্টগ্রাম -১ আবিদুর রহমান বলেন, উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। তেল ভর্তি বগি থেকে তেল অপসারণ করা হচ্ছে। এরপর আজ রাতের মধ্যেই রেললাইনে থাকা ওয়াগণট্রেনের বগি সরিয়ে নেয়া হবে। এরপর রিলিফ ক্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মকবুল হোসেন বলেন, নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এ মূর্হুতে বলা যাচ্ছে না। তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করে বলেন এত বড় দূর্ঘটনা স্বত্ত্বে তারা বিষয়টি আমাদের জানাননি।
আজ শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদল রেলওয়ে কর্মকর্তাদের দায়িত্বজ্ঞান কর্মকান্ডের জন্য বিষোৎগার করে বলেন দ্রুত উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দেশ দেন এবং উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা খন্দকার নুরুল হক ও স্থানীয়দের সহযোগিতার মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়া তেল খড়, বাঁশ ও দড়ি দিয়ে পানি থেকে তুলে ফেলার কথা বলেন। তিনি আরও বলেন রেল কর্তৃপক্ষের অসচেতনতায় এ দূর্ঘটনা ঘটেছে। পুরোনো ব্রিজ সংস্কার না করে কিভাবে এ ট্রেন চলাচল অব্যাহত রেখেছে তাই নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেন।
তেলে ভেসে গেল কচু চাষী জামালে আশা। দূর্ঘটনা স্থলের খুব কাছাকাছি জমিতে প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ করে তিনি কচু চাষ করেন। এ দূর্ঘটনায় তার প্রায় লাখ টাকার কচু ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে এ ফার্নেস তেলে। এছাড়া আশে পাশে ছড়িয়ে পড়া তেলের দূষনে মারা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির জীব জন্তু। সাপ, ব্যাংক মাছসহ বিভিন্ন প্রাণী।
লক্ষাধিক লিটার ফার্নেস অয়েল পানিয়ে ছড়িয়ে গেছে কর্ণফুলী নদীসহ বিভিন্ন খাল বিলে। গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে এ দূর্ঘটনা ঘটে। এসময় ট্রেনচালকসহ অন্তত ৩জন আহত হন। এ ঘটনায় রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব) হারুন অর রশিদ ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবিদুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট পৃথক দুই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হালিম ও সিনিয়র উপ সহকারী প্রকৌশলী আকবর আহমেদ ফেরদৌসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দোহাজারী পিকিং পাওয়ার প¬্যান্টের জন্য ৮বগি ফার্নেস অয়েলবাহী ওয়াগনট্রেনটি চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থেকে দোহাজারী উদ্দেশ্যে ছেড়ে এসে  দুপুর দেড়টা নাগাদ দূর্ঘটনার কবলে পড়ে। ওয়াগনট্রেনটি বোয়ালখালীর বেঙ্গুরা এলাকার বোয়ালখালী-পটিয়া সংযোগ রেলওয়ের ২৪নং সাকিরাসেতু অতিক্রম করার সময় ভেঙ্গে পড়ে। এসময় ফার্নেস অয়েলবাহী ওয়াগনট্রেনের ইঞ্জিনসহ চারবগি লাইনচ্যুত হয়ে ২ বগি খালের পানিতে তলিয়ে যায়। প্রতি বগি প্রতি ৩৩হাজার ৬৪০ লিটার হিসেবে লক্ষাধিক লিটার ফানের্স অয়েল পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দোহাজারী পিকিং পাওয়ার প¬্যান্ট কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় রেলওয়ের জিএম মোজাম্মেল হক, উদ্ধার তৎপরতা চলছে। দু’দিনের মধ্যে উদ্ধার কাজ শেষ হবে। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উদ্ধার কাজে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এ লাইনে বর্তমানে ট্রেন যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে।
উল্লেখ্য ২০১৩ সালের ৩১জুলাই কালুরঘাট এলাকায় তেলবাহী ওয়াগণট্রেনের ৪বগি লাইনচ্যুত হয়। এছাড়া বোয়ালখালীতে দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের ১৩ ও ২৪নং সেতু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেল চলাচল করলেও কর্তৃপক্ষ সেতু মেরামতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। (ডেস্ক)