শামছুল হক শামছু ও তার স্ত্রী মরিয়ম আক্তার। পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে শামছুল হক শামছু (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ বিয়ে করেছেন। এ ঘটনায় মেয়ের মায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার পেরুল গ্রামের ভাড়া করা বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।

অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রীর নাম মরিয়ম আক্তার। আর শামছু পেশায় রিকশাচালক ও ছয় সন্তানের জনক। গত ১০ মে তাদের বিয়ে হয়। অসম বয়সের এ বিয়ের খবর প্রকাশ হতেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব বলেন, ‘ওই ছাত্রীর মায়ের অভিযোগের পর বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। পরে পেরুল গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।’

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুর রহমানও তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শামছুল হক শামছু লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের পেরুল গ্রামের দীঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা। আর ওই ছাত্রীর বাড়ি একই উপজেলার পশ্চিম পেরুল গ্রামে। সে পেরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বর শামছুল হকের ছোট মেয়েও তার সঙ্গে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১০ মে শামছুল হক শামছু ওই ছাত্রীকে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ও ১ লাখ টাকা উসুল দিয়ে বিয়ে করেন। ছাত্রীর বাবা ঢাকায় চাকরির সুবাদে তাদের পরিবার দেখাশোনা করার অসিলায় আগে থেকেই আসা-যাওয়া করতেন রিকশাচালক শামছু। পঞ্চম শ্রেণি থেকেই স্কুলে যাওয়া আসার সময় সে শামছুল হকের রিকশায় যাতায়াত করত। এ সময়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

স্থানীয়রা বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হওয়ায় ১১ মে বর-কনেকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আসেন ইউপি চেয়ারম্যান। বর শামছুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, ‘৫ লাখ টাকা দেনমোহর ও ১ লাখ টাকা উসুলে তাকে আমি বিয়ে করি।’ এ সময় শামছুল হক বিয়ের কাবিননামা ও কনের জন্মসনদ দেখিয়েছে।

শামসুল হকের দুই মেয়ে ও তিন ছেলের মধ্যে এক ছেলে ও এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে। আর কনে চার ভাইবোনের মাঝে দ্বিতীয়। তার বড় বোনের এখনো বিয়ে হয়নি। ছোট দুই ভাই রয়েছে।

বিয়ে প্রসঙ্গে মেয়ের চাচা মোবারক হোসেন মফু বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। অবুঝ মেয়েটাকে ফুসলিয়ে সে এ কাজটা করেছে।’

এ বিষয়ে মেয়ের বাবা বলেন, ‘শামসু আমার বাড়ির কাজ করত। আমি ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমার পরিবারে বিভিন্ন কাজ সে করে দিতো। তাকে আমি খুব বিশ্বাস করতাম। সে আমার মেয়েকে প্ররোচনা দিয়ে বিয়ে করে। সে একজন রিকশাচালক। তার ঘরে স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। এই বয়স্ক একটা লোকের সঙ্গে আমার মেয়ে কীভাবে সংসার করবে?’ -ডেস্ক