বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বিএনপিসহ দেশের বিরোধী মতের জনগণকে ঘরবন্দী করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আজ সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ঢাকা জেলা বিএনপি আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজকে স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীতে স্বাধীনতা বিবর্ণ। সরকার বলছে- স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করছে। এখানে আমাদের জন্য কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস প্রতি বছর পালন করি। কিন্তু এবার তাও পালনের সুযোগ রাখা হয়নি।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি নেতা বেগম সেলিমা রহমান, রুহুল কবির রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, খোন্দকার মাশুকুর রহমান এবং ডা. দেওয়ান সালাহউদ্দিনসহ দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের রোগমুক্তি কামনায় এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এ সময় গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘কোভিড-১৯ দেশ ও বিশ্বের সবার জন্য অভিশাপ হলেও শেখ হাসিনার জন্য আশীর্বাদ। এটাকে তিনি কৌশলে ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিধির দোহাই দিয়ে সবাইকে বিরত রাখছেন। আমরা সুবর্ণজয়ন্তীর কোনো অনুষ্ঠান করতে পারব না; এমনকি যারা আওয়ামী লীগ করেন না তারাও করোনার মধ্যে কর্মসূচি করতে পারবে না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে পারবেন, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সামনে গিয়ে বসবেন, কিন্তু আমরা করতে পারব না। আসলে গোটা জাতিকেই স্বাধীনতার চেতনাবোধ থেকে আলাদা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ এমন একটা করোনায় আক্রান্ত- যা অন্য দেশে নেই। শেখ হাসিনার পেটুয়া বাহিনীর মাধ্যমে নির্যাতন করা হচ্ছে। আদালকে নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

সুবর্ণজয়ন্তীতে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের জন্য বিদেশিদের সার্টিফিকেট বেশি প্রয়োজন হয়ে গেছে। কারণ, মানুষের আস্থার জায়গাটা শেখ হাসিনার জন্য ক্ষীণ হয়ে গেছে। সকল দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা আসুক ভালো কথা। এটা তো ভালো। এটা আমরা স্বাগতম জানাই। কিন্তু তাদের কারণে আমাদের ঘরবন্দি থাকতে হবে। আমরা আমাদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ উপভোগ করতে পারব না, এটা কীসের স্বাধীনতা? কী কারণে বলেছি, বিপন্ন স্বাধীনতা? এই কারণেই বলছি।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী আসবেন। আবার বলেন আসবেন না। আবার বলেন, আসবেন। এমন একটা গুজব কিন্তু মাঠে-ঘাটে আছে। তিনি আসবেন ২৬ ও ২৭ মার্চ। তিনি মন্দির ভিজিট করবেন। মন্দির তো জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দির, রমনা কালী মন্দির এখানে আছে। কিন্তু তিনি গোপালগঞ্জের মন্দিরে যাবেন। তিনি সাতক্ষীরা মন্দিরে যাবেন। এর আশেপাশের লোক এখনই ঘর ছাড়া। নিরাপত্তা বলে একটা কথা আছে। যেখানে যাবেন ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে। তার ভক্ত লাখ লাখ। একটা অনুষ্ঠান হয় ৭ দিন ব্যাপী। সেখানে ১০ থেকে ১৫ লাখ লোকের আগমন হয়। এই প্রধানমন্ত্রীর জন্য যদি এতো লোকের আগমন হয় তাহলে স্বাস্থ্যবিধিটা কোথায় থাকবে? সেখানে স্বাস্থ্যবিধির বাধা নাই?’

খালেদা জিয়া অসুস্থ জানিয়ে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘উনি কারাবন্দীর জায়গায় গৃহবন্দী। কারাগারে থাকা অবস্থায় সরকারের যে আচরণ ছিল গৃহে থাকা অবস্থায় সরকারের একই আচারণ আছে। এক কথায় তিনি মুক্ত নন।’

আয়োজক সংগঠনের সহসভাপতি আজগর হোসেনের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ। -ডেস্ক