(দিনাজপুর২৪.কম) দীর্ঘ ১৫২ বছর পর সুপার ব্লু ব্লাড মুন বা বিশাল নীল রক্তাভ পূর্ণিমার চাঁদ দেখার সাক্ষী থাকল বাংলাদেশ। এই বিরল দৃশ্য দেখতে উৎসুক মানুষের দৃষ্টি ছিল আকাশের দিকে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যার আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ তিনটি চেহারা নিয়ে হাজির হয়েছিল। চাঁদের এই অপূর্ব স্বরূপ মানুষ প্রত্যক্ষ করল। বিশেষ টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই বিরল দৃশ্য দেখার আয়োজন করে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরসহ বেশ কয়েকটি বিজ্ঞান সংগঠন।

চাঁদ তিনটি চেহারা নিয়ে হাজির হওয়া গতকালের পূর্ণিমার চাঁদের নাম ‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন’ বা বিশাল নীল রক্তাভ চাঁদ। এই নামকরণের পেছনে কারণ হলো একই মাসে দ্বিতীয় বার পূর্ণিমার চাঁদ হওয়ায় তার নাম ব্লু-মুন। আর কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসায় ওই চাঁদ সুপার মুন হবে, যার উজ্জ্বলতা ছিল ১৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া স্বাভাবিক অবস্থা থেকে প্রায় ৭ ভাগ পর্যন্ত বেশি বড় দেখা গেছে। সূর্য, পৃথিবী আর চাঁদ একই সরল রেখায় চলে এসেছিল গতকালের ভরা পূর্ণিমায়।

সর্বশেষ এরকম একই সঙ্গে ‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন’ হয়েছিল ১৮৬৬ সালের ৩১ মার্চ। ফলে প্রায় দেড় শ বছরের বেশি সময় পর আবার এরকম ঘটনার সাক্ষী থাকল পৃথিবীর মানুষ।

জোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন, একই সঙ্গে চন্দ্র গ্রহণ হওয়ায় চাঁদের রং ছিল খানিকটা রক্তাভ। ‘সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুম-ল ছুঁয়ে খানিকটা ছাদে যায়, সেই আলো আবার পৃথিবীতে আসার পথে অন্যসব রং হারিয়ে লাল রংটি এসে আমাদের চোখে পৌঁছায়। এ কারণে আজকের চাঁদ অনেকটা রক্তিম দেখা যাবে, যে কারণে এটিকে ডাকা হচ্ছে ব্লাড ব্লু মুন বলে’ বলেছেন জোতির্বিজ্ঞানী ড. শ্যানন স্কমল। বিজ্ঞানীরা একে বর্ণনা করেছেন ‘সুপার ব্লাড ব্লু মুন’ বলে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘অ্যাস্ট্রোনোমিকাল ট্রাইফ্যাক্টা’।

বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের যেসব দেশ থেকে এটি দেখা যায়, তার মধ্যে ছিলÑ মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোনো স্থান, অস্ট্রেলিয়াএবং নিউজিল্যান্ড।

বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্র জানিয়েছে, ঢাকার স্থানীয় সময় ৫টা ৩৭ মিনিটে চাঁদ দিগন্তের ওপরে ওঠার পর থেকে চন্দ্রগ্রহণ শুরু হয়। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ সংঘটিত হয় ৬টা ৫১ মিনিটে আর গ্রহণ শেষ হয় ১০টা ৮ মিনিটে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের কর্মী বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, কোনো ধরনের দর্শনী ছাড়া ব্লু ব্লাড সুপার মুন দেখার জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল।

অনুসন্ধিৎসু চক্রের জোতির্বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি শাহজাহান মৃধা বলেছেন, ‘আদি কাল থেকে পূর্ণিমা ও চন্দ্র গ্রহণের প্রতি মানুষের আকর্ষণ ছিল। একটা সময়ে এসব বিষয়ে মানুষের মধ্যে নানা ভীতি ও সংস্কার কাজ করত। এখনো অনেকের মধ্যে এসব সংস্কার আছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এখন আর এসব নেই বললেই চলে।’

ঢাকার অনেক স্থানে বিশেষ চাঁদ দেখার আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে সবাই অংশ নিতে করেছেন বিশেষ চাঁদ দেখার আয়োজন। এই মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য ঢাকার গ্রিন মডেল টাউন, মান্ডায় পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প স্থাপন করেছে অনুসন্ধিৎসু চক্র। যেখানে পর্যবেক্ষণ ও ছবি তোলার জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা সম্বলিত টেলিস্কোপ, ফটোমিটার রাখা হয়েছিল।

আরেকটি সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি পূর্বাচলের স্বর্ণালি আবাসিক এলাকায় টেলিস্কোপে ও দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে চন্দ্র গ্রহণ দেখার ব্যবস্থা করেছিল। সেখানেও সবাই অংশ নিতে ভিড় জমায়। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখতে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের জাদুঘরে ও পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল।-ডেস্ক