-ফাইল ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) এপার আর ওপার মিলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা! একাধিক কারখানায় তৈরিকৃত যন্ত্রাংশ দিয়ে হচ্ছে ক্ষুদ্রাস্ত্র। মাঝখানে কাঁটাতার, দুই পাশে প্রহরা দিচ্ছে বিএসএফ ও বিজিবি। এসব অবৈধ অস্ত্রের কারখানায় তৈরিকৃত ৮০ শতাংশ অস্ত্রই বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে। চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য এখন ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে।সম্প্রতি ভারতীয় একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যমে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সংবাদে বলা হয়েছে, মুঙ্গের থেকে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁকিনাড়া, সেখান থেকে মালদহের কালিয়াচক, সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে। বেআইনি অস্ত্রের এই নয়া রুটের সন্ধান পেয়ে অবাক হয়েছেন গোয়েন্দারা। ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাঁকিনাড়ায় লাড্ডু কারখানার আড়ালে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল। ওই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র বাংলাদেশের জঙ্গি ও জামায়াতের কাছে সরবরাহ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি জালটাকার নোট কারবারের নয়া সমীকরণের সন্ধান পেয়েছে ভারতের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের জানা নেই। ভারতের সংবাদ মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণে এ ধরনের তথ্য প্রচার হয়ে থাকে। তারপরও বিষয়টির খোঁজ নেওয়া হবে। সেদেশের গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে সংবাদে বলা হয়েছে, আবিষ্কৃত অবৈধ অস্ত্রের কারখানায় ক্ষুদ্রাস্ত্র বা পিস্তলের ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে পাঠানো হতো। আর সে কারণেই মালদহ জেলার কালিয়াচকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে তৈরি করা হয়েছিল অপর একটি অস্ত্র তৈরির কারখানা। কাঁকিনাড়া থেকে অবৈধ অস্ত্রের অর্ধেক তৈরি করা হতো। আর ওই অস্ত্র কালিয়াচকে পাঠানো হতো। এরপর সেখানে ওই অস্ত্রের কাঠামোর সঙ্গে বাকি যন্ত্রাংশ জোড়া লাগিয়ে পূর্ণ আগ্নেয়াস্ত্রে রূপান্তর করা হতো। এরপর সেখানেই পালিশ করে তা ব্যবহারের উপযোগী করা হতো। কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্কফোর্সের (এসটিএফ) গোয়েন্দারা গত সোমবার মালদহে জালটাকার ব্যবসায়ীদের সূত্র ধরে ওই অস্ত্র কারখানার সন্ধান পেয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, কলকাতা পুলিশ মালদহ থেকে জালটাকার নোট এনে একজন জালনোট ব্যবসায়ীকে দেখানোর পরিকল্পনা নেয়। এরপর ওই জালটাকার নোট ব্যবসায়ীর সূত্র ধরেই কালিয়াচক এলাকার শুকুর শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরে শুকুর শেখকে নিয়ে ভারতের গোয়েন্দারা অভিযান চালিয়ে জালটাকার নোটের সঙ্গে ৪০টি ক্ষুদ্রাস্ত্রের অর্ধেকাংশ উদ্ধার করে। এরপর শুকুর শেখকে গোয়েন্দারা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমজাদ রায়ান ও আব্দুল্লাহ নামে দুই ব্যক্তির তথ্য পায়। পরে তাদেরকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাঁকিনাড়ার অবৈধ অস্ত্রের কারখানার সন্ধান পায়। আরেক সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী কাঁকিনাড়ায় ওই অস্ত্রের কারখানায় গত প্রায় সাত মাস ধরে অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, এই কারখানায় পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে একটি ডায়েরি উদ্ধার করে। ওই ডায়েরির মাধ্যমেই গোয়েন্দারা জানতে পারে যে, সেখানে তৈরিকৃত অবৈধ অস্ত্রের প্রায় অধিকাংশই বাংলাদেশে সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের কাছে পাঠানো হতো। তবে সেদেশের এসটিএফের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, ওই অবৈধ কারখানায় গত কয়েক মাসে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া উদ্ধারকৃত ডায়েরির মাধ্যমে জানতে পেরেছে প্রতি মাসে প্রায় ৫০০টি পিস্তল তৈরি করা হতো কারখানায়। ভারতের গোয়েন্দারা খোঁজ নিচ্ছেন যে, অবৈধ কারখানায় তৈরিকৃত এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র কারা কিনেছে। অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, ভারতের ওই অবৈধ কারখানায় তৈরিকৃত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ছোটখাটো দুষ্কৃতকারী দলের পক্ষে কেনা প্রায় অসম্ভব। ফলে তারা কারখানায় তৈরিকৃত অস্ত্রগুলো নিয়মিত মালদহে পাঠাতো। এরপর সেখান থেকে কোনো বড় ধরনের সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে বিক্রি করা হতো। গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে সেদেশের সংবাদ মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসায়ীরা তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকায় ৯ এমএম পিস্তল এবং ৭.৬৫ এমএম বোরের পিস্তলগুলো পাইকারি হারে বিক্রি করা হতো। আর অস্ত্রের দাম কম রাখতে এবং ঝুঁকি কমাতে অস্ত্র কারবারিরা সম্প্রতি নতুন কৌশল নিয়েছে। তারা অস্ত্রের কারিগরদের দিয়ে একাধিক জায়গায় অস্ত্র তৈরি করছে। এক জায়গায় পূর্ণ অস্ত্র তৈরি করছে না। এক জায়গায় অবৈধ অস্ত্রের কাঠামো, অন্য জায়গায় অস্ত্রের স্প্রিং, আবার অপর জায়গায় অস্ত্রের ট্রিগার তৈরি করা হচ্ছে। আর এই অস্ত্রের পার্টসগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে জোড়া লাগানো হতো। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেখানে তৈরিকৃত অস্ত্রগুলো যেহেতু বাংলাদেশে পাঠানো হতো, সেহেতু পৃথক পৃথক জায়গায় তৈরিকৃত অস্ত্রের কাঠামোগুলো সীমান্তবর্তী গ্রামে জোড়া লাগানোর কারখানা গড়া হয়েছিল। যাতে অল্প সময়ের মধ্যেই অস্ত্রগুলো জোড়া লাগিয়ে অস্ত্র ব্যবসায়ী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিতে পারে। ওই কারখানাগুলোতে পুলিশের হানা দেওয়ায় অস্ত্র ব্যবসায়ীরা গা-ঢাকা দিয়েছে। গত ২০১২ সালে অসমে বোরো-মুসলিম অশান্তিকে কাজে লাগিয়েই শক্ত ঘাঁটি করেছিল জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন। এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র ডাইরেক্টর অপারেশন লে. কর্নেল আবেদীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়টি আমাদের জানা নেই। ওই সংবাদটি দেখে বিষয়টি বলা যাবে বলে জানান তিনি। -ডেস্ক