আব্দুল লতিফ রানা (দিনাজপুর২৪.কম)  বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যার ঘটনা এখন অনেকাংশে কমেছে। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী নন লিথাল উইপন (প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র) ব্যবহার বাড়িয়েছে। বর্তমানে সীমান্তে হত্যা কমে আসায় ঢাকা-দিল্লির মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিজিবির এক সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৪ সালে ৪০ জন বাংলাদেশি সীমান্তে হত্যার শিকার হন। আর গত ২০১৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৫ জন। ২০১৬ সালে ৩১ নিহত হয়েছেন। গত ২০১৭ সালে ২১ জন নিহত হন। এই হিসেবে দেখা যায়, সীমান্তে হত্যাকা- পুরোপুরি বন্ধ না হলেও অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তে মানুষ হত্যা শূন্যের কোঠায় আনতে বিজিবি-বিএসএফ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। সীমান্তের মানুষের মধ্যেও সচেতনতা আগের চেয়ে অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দ্ইু দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী সীমান্তে হত্যা বন্ধে গুরুত্বারোপ করে উভয়ের মধ্যে সম্পর্কও দৃঢ় করেছে। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার। এটা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তর সীমান্ত। দীর্ঘ এই সীমান্তে চোরাচালানসহ নানা ধরনের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ- ভারতের এই সীমান্তে গরু চোরাচালানকে কেন্দ্র করেই আগে প্রায় প্রতিদিনই হত্যাকা- ঘটতো। তবে এখন সীমান্তে গরুর চোরাচালান কমে এসেছে। আর এজন্যই সীমান্ত হত্যাও হ্রাস পেয়েছে। এদিকে সীমান্তে হতাহতের ঘটনা এড়াতে বিএসএফ নন-লিথেল অস্ত্র ব্যবহার করার দাবি করেছে। আর সশস্ত্র সীমান্ত অপরাধীদের বিপদজনক আক্রমণের শিকার হয়েও বিএসএফ সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতা প্রদর্শন ও ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করে আসছে। ভারতের নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে ৪৭তম সীমান্ত সম্মেলন শেষে এ দাবি করা হয়েছে। সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম, এনডিসি, পিএসসির নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। অপরদিকে বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী কে কে শর্মা, আইপিএস-এর নেতৃত্বে ২০ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সূত্র জানায়, সম্মেলন শেষে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হতাহতের ঘটনা রোধে বিএসএফ পদক্ষেপ গ্রহণ করায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক সীমান্তে হতাহতের ঘটনা এখনো শূন্যের কোঠায় নেমে না আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অপরদিকে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে হতাহতের ঘটনা এড়াতে বিএসএফ নন-লিথেল অস্ত্র ব্যবহার, সশস্ত্র সীমান্ত অপরাধীদের বিপদজনক আক্রমণের শিকার হয়েও বিএসএফ সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতা প্রদর্শন ও ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করছেন। আর সীমান্ত অপরাধীদের দ্বারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বন্ধ করাসহ তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে হতাহতের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি বলেছেন। সীমান্তে হত্যা বন্ধে বিজিবি ও বিএসএফ প্রতিরোধমূলক যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। বিএসএফ মহাপরিচালক ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অনুসন্ধানে বিজিবিসহ বাংলাদেশি অন্যসব সংস্থার সহযোগিতার প্রশংসা করে আরও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছেন। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে এধরনের কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই। তাছাড়া, বাংলাদেশ কখনই তার ভূমি অন্যকোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে ব্যবহারের সুযোগ দেয় না। আবার ইচ্ছাকৃত সীমান্ত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিজ নিজ দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অসতর্কতাবশত সীমান্ত অতিক্রমকারী নাগরিকদের নিজ দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিকট হস্তান্তরে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। বিজিবি ও বিএসএফ মানবপাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পাচারের শিকার হওয়া নাগরিকদের দ্রুত উদ্ধারসহ পুনর্বাসনে নিজ নিজ দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া, ভারতীয় জাল মুদ্রাপাচার রোধে বিএসএফ মহাপরিচালক সহযোগিতা প্রদানের জন্য বিজিবিসহ বাংলাদেশের অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রশংসা করে বলেছেন, উভয়পক্ষ মাদক, অস্ত্র, স্বর্ণপাচারসহ সবধরনের চোরাচালান বন্ধে একে অপরের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং চোরাচালান রোধের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। যশোর সীমান্তে ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’-এর কার্যকারিতার প্রশংসা এবং অন্যান্য সীমান্তে পর্যায়ক্রমে ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ ঘোষণা করতে নীতিগতভাবে সম্মতি প্রকাশ করেছেন। আর বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত অংশগ্রহণমূলক আলোচনায় উভয়পক্ষের সুচিন্তিত মতামতের ফলে সম্মেলন অত্যন্ত অর্থবহ হওয়ায় উভয়পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, যা দুদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। আগামী ২০১৯ সালের মার্চ অথবা এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় মহাপরিচালক পর্যায়ের পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলনের ব্যাপারে বিজিবি ও বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মোহসিন রেজা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। -ডেস্ক