(দিনাজপুর২৪.কম) লাদাখে বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় ভারত ও চীন উভয় দেশ শক্তি বৃদ্ধি করছে। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে। দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধি তেমনই ইঙ্গিত করছে। এদিকে ১৫ জুন লাদাখে সংঘর্ষের পর এই প্রথম এ নিয়ে মুখ খুলল বেইজিং। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে পুরো দায় চাপানো হয়েছে ভারতের ওপর। এমনকি চীনা সেনারা কোনো সীমান্ত অতিক্রম করেনি বলেও ওই বিবৃতিতে জানানো হয়। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরা।

১৫ জুন লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়। এ ছাড়া আহত হয় অন্তত ৭৬ জন। তবে ভারতীয় সেনাদের দাবি অনুযায়ী চীনের ৪৩ সেনা নিহত হয়েছে। যদিও চীন এ সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি।

এদিকে উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস জানিয়েছেÑ ওই সংঘাতের পরই সীমান্তে উভয় দেশই নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। প্ল্যানেট ল্যাবস প্রদত্ত স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেণ করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ভারতীয় ভূখ-ে ৩০-৪০টি সামরিক যান অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করে অবস্থান নিয়েছে। আর চীনা অংশে প্রায় ১০০টি অতিরিক্ত ট্রাক অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তের ওই অংশে উপস্থিত চীনা সেনাদের সংখ্যা এক থেকে দেড় হাজার হতে পারে। সাধারণত ৫০০-৬০০ সেনা মোতায়েন থাকে। এ ছাড়া অন্যান্য সামরিক ইফনিট, বিশেষ করে মেকানাইজড ডিভিশনকেও ডাকা হয়েছে। অবশ্য সীমান্তের কাছে যেসব চীনা তাঁবু সংঘাতে উসকানি হিসেবে কাজ করেছিল সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিজিয়ান ঝাও গতকাল শনিবার টুইটারে বলেন, পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশীর মধ্যে দুর্বলভাবে চিহ্নিত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) চীনা অংশে অবস্থিত গালওয়ান উপত্যকা। তিনি বলেন, এলএসির চীনা অংশে ভারতীয় অবকাঠামো নির্মিত হলে মে মাসে দুই দেশের কর্মকর্তাদের আলোচনায় ঐকমত্য হয়। সেই অনুযায়ী সম্প্রতি ভারত ওই অবকাঠামো এবং নিজ বাহিনী সরিয়ে নিলে উত্তেজনা কমে আসতে শুরু করে। আর সেই মুহূর্তে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। লিজিয়ান ঝাও বলেন, ‘গালওয়ান উপত্যকার পরিস্থিতি যখন ইতোমধ্যে নিরসন হতে শুরু করেছে তখন ভেবেচিন্তে উসকানি দেওয়ার জন্য গত ১৫ জুন ভারতীয় বাহিনী আরও একবার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে।’ তিনি বলেন, ‘এমনকি আলোচনার জন্য সেখানে যাওয়া চীনা কর্মকর্তা এবং সেনা সদস্যদের ওপর সহিংস হামলা চালায় ভারতের সম্মুখভাগে থাকা সেনারা, এভাবেই তীব্র শারীরিক সংঘাত শুরু হয় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে।’-ডেস্ক