চৌধুরী মুমতাজ আহমদ, সিলেট (দিনাজপুর২৪.কম) পাথরবাহী ভারী ট্রাক চলবে বলেই রাস্তাটি তৈরির উদ্যোগ। সাড়ে ২৭ কোটি টাকা খরচ হয়ে যাওয়ার পর কর্তাব্যক্তিরা টের পেলেন রাস্তাটি ভারী যান চলাচলের উপযোগী নয়। অতএব প্রকল্প বন্ধ। ওসমানী বিমানবন্দর-বাইশটিলা-বাদাঘাট-মইয়ারচর-কুমারগাঁও সড়কটি তাই অকেজো হয়ে পড়েই আছে। এখন আরো দুইশ’ কোটি টাকা খরচের অপেক্ষায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। টাকা পেলে নতুন করে শুরু হবে খরচের মহাযজ্ঞ।
নগর হিসেবে সিলেটের যাত্রা শুরুর আগেই বিমানবন্দর-কুমারগাঁও বাইপাস সড়কটি নির্মাণের ভাবনা আসে সড়ক সংশ্লিষ্টদের। ধীরে ধীরে ব্যস্ত হতে থাকা সিলেট শহর না ছুঁয়ে ভোলাগঞ্জ থেকে পাথরবাহী ট্রাকগুলোকে ঢাকা সিলেট মহাসড়কে তুলে দিতেই এ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। প্রস্তাবিত সড়কটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাইশটিলা-বাদাঘাট-মইয়ারচর-কুমারগাঁও ও তৃতীয় শাহ্‌জালাল সেতু হয়ে সিলেট ঢাকা মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার কথা ছিল। সওজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে এ বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এর এক বছর পর সড়কটির নির্মাণকাজও শুরু হয়। সে কাজ আর এগোয়নি। অনেক দিন হিমাগারে থাকার পর প্রকল্পটি আবার নতুন করে সাজানো হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে সিলেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ২০১০ সালে ১০ আগস্ট প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এবার ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৪৫ কোটি ৪২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হয়। গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রকল্প ‘আপাতত স্থগিত’ দেখিয়ে পুরো কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। সে কাজ আর এগোয়নি।
কেন এগোয়নি? সাড়ে ২৭ কোটি টাকার কাজ হয়ে যাওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সড়কটির কাজের তদারকি করতে আসে। তারা তদারকি শেষে জানায় সড়কটি জাতীয় হাইওয়ে মানের হওয়ার কথা থাকলেও কাজ হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ের। এ পথ দিয়ে ভারী যান চলাচল সম্ভব নয়-উপলব্ধি করতে পারে প্রতিনিধি দলটি। ‘আপাতত স্থগিত’ করে দেয়া হয় প্রকল্পের কাজ। পরে যা চিরদিনের জন্য লাল ফিতায় বাঁধা পড়ে।
সওজ সূত্র জানিয়েছে, ওসমানী বিমানবন্দর-বাইশটিলা-বাদাঘাট-মইয়ারচর-কুমারগাঁও বাইপাস সড়কটিকে জাতীয় মানের হাইওয়ে হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন করে প্রকল্প তৈরি হচ্ছে। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মনিরুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, নতুন প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে ২শ’ কোটি টাকা। বরাদ্দ পেলে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
ভোলাগঞ্জ থেকে শহরমুখী ট্রাকগুলোকে ঘুরিয়ে দিতে বিমানবন্দর-কুমারগাঁও বাইপাস সড়কটির সমান্তরালে আরো একটি বাইপাস সড়কের কাজ হওয়ার কথা ছিল। বিমানবন্দর সংলগ্ন চা বাগানের মধ্য হয়ে শাহ্‌পরাণ সেতু দিয়ে কোম্পানীগঞ্জ-সিলেট-ঢাকা হাইওয়ের সাথে সংযুক্ত হওয়ার কথা ছিল বাইপাসটির। সে প্রকল্পটিরও মৃত্যু হয়েছে আঁতুড় ঘরেই। তবে সওজ সূত্র বলছে, এটি আলাদা কোনো প্রকল্প ছিল না। কাজীরবাজার সেতু প্রকল্পের সাথেই এ সড়কটির নির্মাণ হওয়ার কথা ছিলো। নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মনিরুল ইসলাম জানান, চা বাগানের ভেতর দিয়ে রাস্তা নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়ায় সড়ক নির্মাণের কাজ আর এগোয়নি।
শহরমুখী ট্রাকগুলোকে বিকল্প পথে তুলে দিতে না পারায় সিলেট নগরীর রাস্তাঘাটগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। প্রতি নিয়তই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, প্রাণও হারিয়েছেন অনেকে। আর ভারি ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে পড়ছে নগরীর পথগুলো।