(দিনাজপুর২৪.কম) সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলাকালে পাশ্ববর্তী এলাকায় বোমা বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। এর মধ্যে দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। দুই দফা বিস্ফোরণের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাঠানপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। তবে বিস্ফোরণের কারণ জানা যায়নি।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন- জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ও আদালত পুলিশের পরিদর্শক চৌধুরী মো. আবু কয়সার। তারা দুজনই পুলিশের বোমা নিস্ক্রিয়কারী দলের সদস্য ছিলেন। নিহতদের অপর চারজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা জান্নাতুল ফাহিম, কলেজছাত্র অহিদুল ইসলাম অপু ও নগরীর দাঁড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম (৩৮)। নিহত আরেকজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে জানিয়েছেন জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রুকনুদ্দিন জানান, মদনমোহন কলেজের বিবিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অপু বিস্ফোরণস্থলেই মারা যান বলে। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাকিদের মৃত্যু হয়।
এর আগে রাত ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের বলেন, বিস্ফোরণে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজন নিহত হয়েছেন।
এরপর রাত ১টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিদর্শক মনিরুলের মৃত্যু হয় বলে তার থানার ওসি আখতার হোসেন জানান। কাছাকাছি সময় দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের উপ পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ফাহিমের মৃত্যু হয় বলেও জানান তিনি।

কীভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে সে বিষয়ে মুখ খোলেননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা। তবে সিলেটের পুলিশ কমিশনার বলেছেন, জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের জেরেই এটা ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা। আহতদের মধ্যে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ ও র‌্যাব ৯ এর মেজর আজাদ এবং দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি হারুনুর রশিদ রয়েছেন। র‌্যাব কর্মকর্তা আজাদকে রাতেই হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় এনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার সারা শরীরে বোমার স্পিøন্টার বিদ্ধ হয়েছে বলে ওসমানী মেডিকেলের একজন চিকিৎসক জানান।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে ওই জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর তা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর প্রায় ৩০ ঘণ্টা সেখানে পাহারা বসিয়ে শনিবার সকালে অভিযান শুরু করেন সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডোরা। বাড়িটিতে জিম্মি দশায় থাকা ৭৮ জনকে উদ্ধার করা হলেও অভিযান শেষ হয়নি।
ওই অভিযান নিয়ে সন্ধ্যায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান সাংবাদিকদের ব্রিফ করার পরপরই কাছের পাঠানপাড়ায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়া যায়।
বিস্ফোরণের শব্দ শুনে অভিযানস্থল থেকে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা সেখানে ছুটে যান। শিববাড়ির মূল সড়ক থেকে ওই জঙ্গি আস্তানার দিকে যে রাস্তাটি গেছে, তার কাছেই বিস্ফোরণটি ঘটে। ডেস্ক