(দিনাজপুর২৪.কম) সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় ২০ শিশুসহ কমপক্ষে ৯৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ‌ইস্টার্ন ঘৌটা এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। সিরিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর)-এর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো খবরটি জানিয়েছে।

ইস্টার্ন ঘৌটায় প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস। ২০১৩ সাল থেকে এলাকাটি বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে। রাজধানী দামেস্কের কাছে অবস্থিত এটিই সর্বশেষ এলাকা যেটি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকাটির পুনদর্খল নিতে চলতি মাসের শুরুর দিকে অভিযান জোরালো করে সরকারি বাহিনী। এতে শত শত মানুষ হতাহত হয়। পরে বেসামরিকদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে এক বিরল অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। রোববার থেকে আবার সেখানে অভিযান শুরু করে সরকারি বাহিনী।

সিরিয়ান অবজারভেটরির প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার ইস্টার্ন ঘৌটার আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা শুরু করে সরকারি বাহিনী। পুনর্দখল নিতে বড় ধরনের স্থল অভিযানেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। সিরিয়ান অবজারভেটরির দাবি, রোববার থেকে শুরু হওয়া বিমান হামলায় ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছে। স্থানীয় এক চিকিৎসক ডিপিএ নিউজকে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালগুলো আহতদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। চেতনানাশক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। আবাসিক এলাকার দিকে প্রবেশকারী যেকোনও কিছু দেখলেই সরকারি বিমান থেকে গুলি করা হচ্ছে। সিরিয়ান অবজারভেটরির প্রধান রামি আবদেল রহমান ডিপিএ নিউজকে বলেন, ‘ইস্টার্ন ঘৌটার সব আবাসিক এলাকায় ভারি বোমা বর্ষণ করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার জানা যায়,তুরস্কের সীমান্তবর্তী শহর আফরিনে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিরিয়ার সরকার। কুর্দি বিদ্রোহীদের সংগঠন ওয়াইপিজির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়,তাদের সমর্থন দিতেই প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাহিনী মোতায়েন করা হবে। গত মাস থেকে ওই শহর থেকে কুর্দি বিদ্রোহীদের বিতাড়িত করতে অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক।

সিরিয়া ও কুর্দি বিদ্রোহীদের সমঝোতায় পৌঁছানোর খবরের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তুরস্ক। পররাষ্ট্র মন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেছেন,আফরিনে তাদের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। জর্ডানের রাজধানী আম্মানে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, আফরিনে ওয়াইপিজিকে মোকাবিলায় সিরিয়া সেনা পাঠালে তাদেরকে স্বাগত জানাবে তুরস্ক। তিনি বলেন,‌তেমনটি হলে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু যদি তারা ওয়াইপিজি ও পিকেকে রক্ষা করতে সেখানে প্রবেশ করে তাহলে তুরস্কের সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।

কুর্দি বিদ্রোহীদের সংগঠন কুর্দিস্তান ওয়ার্কাস পার্টি (ওয়াইপিজি) তুরস্কে নিষিদ্ধ সংগঠন। কুর্দিস্তান ডেমোক্রাটিক পার্টির সশস্ত্র এই শাখাটির হাতে রয়েছে তুরস্কের সীমান্তবর্তী সিরিয়ার শহর আফরিনের নিয়ন্ত্রণ। সেখান থেকে তাদের বিতাড়িত করতে অভিযান জোরালো করে তুরস্ক। -ডেস্ক