(দিনাজপুর২৪.কম) বৃহস্পতিবার সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটায় সরকারি বাহিনীর হামলায় কয়েক ডজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এ নিয়ে গত পাঁচদিনে সেখানে সরকারি বাহিনীর হামলায় নিহতের সংখ্যা চারশ ছাড়িয়েছে। শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পরও এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে নি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সিরিয়ায় অস্ত্র বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে সুইডেন ও কুয়েত। কিন্তু এই প্রস্তাবের বিষয়ে একমত হতে পারে নি পরিষদের সদস্যরা। বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

এতে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদে ৩০ দিনের যুদ্ধ-বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। কিন্তু এই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত পৌছতে পারে নি পরিষদ। তবে পূর্ব ঘৌটায় দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌছানো ও সেখানে আটকে পড়া মানুষদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
ত্রাণ সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস বলেছে, গত তিন দিনে পূর্বঘৌটায় তাদের দেয়া ১৩ টি সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে বা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার শতশত আহত মানুষকে সেবা দেয়ার মতো পর্যাপ্ত জনবলও তাদের নেই। সিরিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, পাঁচদিন ধরে সরকারি বাহিনীর চালানো বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে ৪০৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫ জনই শিশু।
বৃহস্পতিবার সকালে পূর্ব ঘৌটায় বৃষ্টিপাতের কারণে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। তবে দুপুর নাগাদ আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ার পরপরই আবার আকাশে বোমারু বিমানের গর্জন শোনা যায়। এগুলো সেখানকার নিরীহ মানুষদের ওপর নির্বিচারে বোমা নিক্ষেপ করতে থাকে। এর মধ্যে রাশিয়ার বিমানও রয়েছে।  তবে ঘৌটায় সরাসরি হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে রাশিয়া। কিন্তু সিরিয়ার সরকারপন্থি দৈনিক আল ওয়াতানের খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়ার যুদ্ধবিমানও যুদ্ধে যোগ দিয়েছে।
এদিকে, সিরিয়ার শত শত মানুষ হত্যা করার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নর্ট বলেছেন, রাশিয়া সিরিয়াকে সমর্থন না দিলে এই ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাযজ্ঞ ঘটতো না।  -ডেস্ক