(দিনাজপুর২৪.কম) দেশে সিরিয়াল কিলিং শুরু হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশে যেন প্রতি মুহূর্তে গোরস্তানের পরিসরই বিস্তৃত হচ্ছে। দেশে একদলীয় দুঃশাসনের নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার একটি হচ্ছে এই জঙ্গি তৎপরতা। ভোটারবিহীন সরকারের রাজনৈতিক আচরণ ও জঙ্গিদের আচরণের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এই দুই পক্ষই বিরোধী চিন্তা ও মত সহ্য করে না। গণতন্ত্রের সারাৎসার মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার এরা নৃশংস কায়দায় থেঁতলে দিতে কুণ্ঠিত হয় না। অমানবিক বর্বরতাই এদের দিন রাতের কর্মসূচি। দুষ্কৃতকারীদের হাতে চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার ও নাটোরে খ্রিষ্টান মুদি দোকানদার সুনীল দানিয়েল গোমেজ নৃশংসভাবে নিহত হওয়ার ঘটনায় গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, দেশবাসী যেন এক নিরাপত্তাহীন অন্ধকার গুহায় বসবাস করছে। চারদিকে ভয়, শঙ্কা আর আতঙ্ক নিয়েই দেশের মানুষ এখন অনিশ্চিত জীবনযাপন করছে। ভ্রুক্ষেপহীন সরকার বন্য প্রতিহিংসার আক্রোশে জঙ্গিদের তৎপরতা দমন করার পরিবর্তে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপিয়েই দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটালেও নিজেরা নিষ্কলঙ্ক হতে পারছে না। তাই প্রকৃত দুষ্কৃতকারীদের অনুসন্ধান করে গ্রেপ্তার করার পরিবর্তে বিভ্রান্তমূলক কথাবার্তা ছড়াচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশের মানুষ এবং বিশ্ববাসী তাদের উচ্চনাদী অপপ্রচার বিশ্বাস করে না। আর এই সুযোগে জঙ্গিরা আরো বেশি শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। জঙ্গিরা প্রকাশ্য দিবালোকে নির্ভয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করছে, কিন্তু ক্ষমতাবিলাসী সরকার নিশ্চিন্তে এগুলোকে আমলেই নিচ্ছে না। বিদেশি হত্যা থেকে শুরু করে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজন ও তাদের ধর্মগুরু, মসজিদের ইমাম, শিয়া মুসলমান, পীর ও পীরের শিষ্য কেউই ঘাতকদের প্রকাশ্য অস্ত্রের আঘাত থেকে রেহাই পায়নি। জনপদের পর জনপদে এখন শোকের মাতম উঠেছে। এই রক্তনদী আর কতদূর বইবে তা কেউ জানে না। খালেদা জিয়া বলেন, দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ক্ষমতা বজায় রাখতে গিয়ে সরকার নিজেই রক্তাক্ত হানাহানির পথ বেছে নিয়েছে। যার নগ্ন বহির্প্রকাশ আমরা দেখেছি সম্প্রতি অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার রাজনৈতিক অন্ধকারে পা রেখেছে। দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন সকলকে তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে অস্ত্র দিয়ে বারবার হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর এক নির্বিকার উদাসীনতা প্রদর্শন করছে সরকার। আসলে এই বর্বরোচিত ঘটনাগুলোর রহস্য কী এবং এ নিয়ে সরকার-জঙ্গিরা কে কী বার্তা দিতে চাচ্ছে-তা নিয়ে জনগণের মধ্যে এক বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খালেদা জিয়া বলেন, চট্টগ্রামে পুলিশ সুপারের স্ত্রী এবং নাটোরের খ্রিশ্চিয়ান পল্লীতে মুদি দোকানিকে হত্যা বর্বর, কাপুরোষোচিত ও অমানবিক পশুপ্রবৃত্তির শামিল। মানবতাবোধ শূন্য এই অন্ধ হিংস্রতা মানুষের বিবেককে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে। সুতরাং মানুষের অধিকারহীন এই দেশ যেন এখন মৃত্যুনগরীতে পরিণত হয়েছে। মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনাশঙ্কায় ভয়াল পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে না পারলে জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন অবিলম্বে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার এবং খ্রিষ্টান মুদি দোকানদার সুনীল দানিয়েল গোমেজকে হত্যাকারী দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। তিনি মাহমুদা আক্তারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং সুনীল দানিয়েলের আত্মার শান্তি কামনা করেন। সেই সঙ্গে নিহতদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।-ডেস্ক