বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া মূল আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কারাগারে আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আজ বুধবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, মেজর সিনহা (অব.) মারা গেছে, সারা দেশ উত্তাল হলো। ঘটনাস্থলে কে গেলেন? সেনাপ্রধান গেলেন। কে গেলেন? আইজিপি গেলেন। মেজর সিনহা হত্যা হলো, গ্রেপ্তার হলো, সব কিছু হলো- মূল আসামি কি এখন কারাগারে আছে? একটু খোঁজ-খবর নেন, কারাগারে আছে কিনা। হয়ত পরবর্তী তারিখে বোঝা যাবে আদালতে হাজির করতে পারে কিনা কারা কর্তৃপক্ষ। তাহলে আমরা কোথায় আছি? একি দেশের স্বাধীনতা?

তিনি বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে বিশাল সেনাবাহিনী আছে, বিশাল বর্ডার গার্ড আছে। আজকে আমাদের সীমান্তে প্রতিদিন আমরা লাশ রিসিভ করি, প্রতিদিন গুলির আওয়াজ হয় একদিন থেকে, আমাদের দিক থেকে গুলি করা হয় না। আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা গুলি করবো না, আমাদের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী এখন গুলি ছুঁড়ে না। তাহলে বিদেশ থেকে এতো অস্ত্র-শস্ত্র কিনে কেন? সীমান্তে আমাদের নাগরিকদের মারতেছে, বর্ডার কিলিং হচ্ছে, প্রতিবাদ নাই।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘এখন আমাদের যে সীমানা আছে তিন দিক দিয়ে, এখানে তো গার্ড রাখার দরকার নাই, কয়েকজন চৌকিদার হারিকেন দিয়ে দাঁড়ায় থাকলে চলে। যেহেতু প্রতিবাদ করার কিছু নাই, দেশে যা কিছু করতে পারে, ভেতরে ঢুকে যাকে তাকে ধরে নিতে পারে, মানুষকে যখন-তখন কুকুরের মতো গুলি করতে পারে তাহলে আজকে আধুনিক সমরাস্ত্র দিয়ে আমরা কী করছি? কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি? আমরা তো যুদ্ধ করছি না, পণ করছি যুদ্ধ করবো না।’

বাংলাদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং ‘ভিন দেশের’ কথার বাইরে হয় না বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির সর্বোচ্চ নির্ধারণী ফোরামের এ নেতা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং সেটা সচিবালয়ই হোক বা কোনো ব্যাংকে হোক যেখানেই হোক না কেনো, সেই পোস্টিং ভিন্ন দেশের কথার বাইরে হয় না।’

৩ নভেম্বর চার নেতার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে টেনে গয়েশ্বর বলেন, ‘৩ নভেম্বর জেলখানার হত্যাকাণ্ড। তারিখ বলে, তখন তো জিয়াউর রহমান বন্দী, ২ তারিখ ভোর বেলা থেকেই। তখন খালেদ মোশাররফ ক্ষমতায়। তাহলে খালেদ মোশাররফ পরিকল্পনায় বা খন্দকার মুশতাকের সঙ্গে আলাপ করে জেলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটায়নি- এই কথা বুঝতে কী কষ্ট হয়? কারণ তার (খালেদ মোশাররফ) ভয় ছিলো? তার পাওয়ারের ভয় ছিল রাজনৈতিক নেতৃত্ব। শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর এই চার নেতাকে হত্যা করলে হয়ত এই তরফ থেকে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব করার সুযোগ থাকবে না। খালেদ মোশাররফের মাথায় তো ছিলো না যে, শেখ হাসিনা দেশে আসবেন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘সেই কারণেই আজকে কন্যা হিসেবে পিতার হত্যার বিচার, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা থাকতেই পারে। কিন্তু আমি তো দেখছি না। আমি দেখছি শেখ হাসিনা তার পিতার হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ জড়িত পরিকল্পনাকারীদের একের পর এক ঘুষ দিচ্ছেন, যাতে তার দশা এরকম না হয়। তাদেরকে সন্তুষ্ট রাখছেন, যাতে ঘরের থেকে আবার ক্যু’টা না হয়। ’

জাতীয়ে প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ফরিদ উদ্দিন, তাঁতী দলের কাজী মুনিরুজ্জামান মুনির, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ওবায়দুর রহমান টিপু প্রমুখ। -ডেস্ক