(দিনাজপুর২৪.কম) ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষা কেন্দ্রে দগ্ধ নুসরাত জাহান রাফিয়ার (১৮) অবস্থা আশঙ্কাজনক। তা‌কে আইসিইউতে রাখা হ‌য়ে‌ছে। সোমবার সকাল ৮টার পর থে‌কে কোনো কথাই বল‌তে পার‌ছে না সে। এদিকে অগ্নিদগ্ধ রাফিয়াকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটের প্রধান সামন্ত লাল সেন এ কথা নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার বিকেলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত নুসরাত জাহান রাফিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্ভব হলে অতিদ্রুত তাকে (রাফিয়াকে) সিঙ্গাপুরে পাঠানোর কথা বলেছেন তিনি।

এর আগে রা‌ফিয়ার উন্নত চি‌কিৎসার জন্য প্রয়োজ‌নে দে‌শের বাইরে নি‌তে প্রধানমন্ত্রীর হস্ত‌ক্ষেপ কামনা করেছিলেন রা‌ফিয়ার বাবা এ‌ কে এম মুসা। তি‌নি ব‌লেন, রা‌ফিয়ার উন্নত চি‌কিৎসার জন্য যা‌তে প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থাগ্রহণ ক‌রেন। য‌দি প্রয়োজন হয় দে‌শের বাইরে নেয়ার ব্যবস্থা যেন ক‌রেন তি‌নি।

এদিকে রা‌ফিয়ার অবস্থার অবনতি হ‌য়ে‌ছে। তা‌কে লাইফ সা‌পোর্টে রাখা হ‌য়ে‌ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এর আগে শনিবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

জানতে চাইলে ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সাজার্রি ইউনিটের প্রধান ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, রা‌ফিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। মেয়েটির সব ধরণের চিকিৎসা দিচ্ছি আমরা।

এর আগে শনিবার সকালে ফেনীর সোনাগাজীর পৌর এলাকার ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতর রাফিয়ার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। সে শিক্ষক সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিল বলে জানায় তার পরিবার।

রাফিয়ার মায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে তার কক্ষে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা। সেই মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল রাফিয়ার পরিবারে ওপর। পরে গায়ে আগুন দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে রাফিয়াকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। -ডেস্ক