(দিনাজপুর২৪.কম) আসন্ন বাজেটে সব ধরনের সিগারেটের খুচরা মূল্যের ওপর ৭০ শতাংশ করারোপ করার সুপারিশ করেছে প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) এবং এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘কেমন তামাক-কর চাই’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ করা হয়। যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রজ্ঞা ও আত্মা। সহযোগী হিসেবে ছিলে তামাকবিরোধী সংগঠন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, এইড ফাউন্ডেশন, অধীর ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, এসিডি, ইপসা, সীমান্তিক, উবিনীগ, ইসি বাংলাদেশ, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, নাটাব, বিসিসিপি ও প্রত্যাশা।

লিখিত বক্তব্যে এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মার কো-কনভেনর এবং এটিএন বাংলার প্রধান প্রতিবেদক নাদিরা কিরণ এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন। এর মধ্যে ২৩ শতাংশ মানুষ ধূমপানের মাধ্যমে তামাক ব্যবহার করেন। ২৭ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন। আর ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের প্রবণতা নারীদের মধ্যে বেশি। বাংলাদেশে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সের প্রায় ৭ শতাংশ  কিশোর-কিশোরী তামাক ব্যবহার করে। যে তামাকের  ব্যবহারে দেশে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ মানুষ মারা যায়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেটকে সামনে রেখে তামাকপণ্যে করারোপ বিষয়ে বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। যা হলো- সিগারেটের করারোপের জন্য ব্যবহৃত মূল্যস্তর প্রথা তুলে দিতে হবে। সব ধরনের সিগারেটের ওপর খুচরা মূল্যের ৭০ শতাংশ, বিড়ির খুচরা মূল্যের ওপর ৪০ শতাংশ, জর্দা এবং গুলের ওপর খুচরা মূল্যের ৭০ শতাংশ সুনির্দিষ্ট এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপ করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহতকরণে তামাকের ওপর বিদ্যমান রপ্তানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা। তামাকের চুল্লি প্রতি বাৎসরিক ৫ হাজার টাকা লাইসেন্সিং ফি আরোপ করা। তামাকপণ্যের ওপর ২ ভাগ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ করা। এখান থেকে আদায়কৃত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় তামাক নিয়ন্ত্রণ এবং অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় ব্যয় করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক, প্রত্যাশা সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ প্রমুখ। -ডেস্ক