(দিনাজপুর২৪.কম) বগুড়া জেলায় সাড়ে ৯ হাজার বয়স্কভাতার কার্ড বাতিল করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে জন্ম তারিখ পরিবর্তনের অভিযোগে এসব ভাতার কার্ড বাতিল করা হয়। এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) কার্যক্রমে বয়সের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাদের ভাতা বাতিল করা হয়।

আজ বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সমাজসেবা অধিদপ্তর, বগুড়ার উপপরিচালক আবু সাঈদ মো. কাওছার রহমান। তিনি বলেন, ‘জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে যারা এসব করেছিল তাদেরগুলোই বাতিল করা হয়েছে। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী এসব কার্ড নতুন করে অন্যদের মাঝে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর কাজ করছে। আগামী মাসের মধ্যে এসব বয়স্ক ভাতার কার্ড পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হবে।’

ধুনট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কাফী বলেন, ‘এখন অনলাইনে ভাতার তথ্য পূরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত বয়সের কম উল্লেখ করলে অনলাইন সেটা গ্রহণ করবে না। বয়োজ্যেষ্ঠ না হয়েও বয়স্ক ভাতাভোগীদের জায়গায় নীতিমালা অনুযায়ী অন্যদের প্রতিস্থাপন করা হবে। এমআইএস পদ্ধতির কারণে এ ধরনের কাজ আর হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সরকারিভাবে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর থেকে বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য বয়স্কভাতা চালু করা হয়। বয়স্ক ভাতার ক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য নির্ধারিত বয়স সীমা ৬৫ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৬২ বছর নির্ধারণ করা হয়। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী বগুড়া জেলায় ১ লাখ ৪ হাজার ৭১৪ জনের বয়স্ক ভাতার কার্ড রয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে নয় হাজার কার্ড বাতিল হয়েছে।

চলতি বছর সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশে এমআইএস কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে জেলা সমাজসেবা অফিস। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৭২টি উপজেলায় প্রথম এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছর থেকে সারা দেশে একযোগে এ কার্যক্রম চালু হয়েছে। এ কাজে সহযোগিতা করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মীরা।

ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত উদ্যোক্তরা জানান, অনলাইনে সমাজসেবার সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভাতাভোগীর বই নম্বর, জন্ম তারিখ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলে সব তথ্য বের হয়ে আসে। যদি কোনো ভাতাভোগীর বয়স ৬৫ বা ৬২ এর কম হয় তবে সফটওয়্যার তা ইনভেলিড লেখা দেখায়। এভাবে এমআইএস কার্যক্রমে বয়সের অনুপযোগী শনাক্ত হওয়ায় ভাতা বাতিল করা হয়েছে।

ডিজিটাল নিয়মে ডাটাবেজ করতে গিয়ে মূল জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে মিলছে না ভাতাভোগীদের জন্ম তারিখ। এসব ভাতাভোগীদের বয়সের সবচেয়ে বেশি অসঙ্গতির জন্য এ অবস্থা হয়েছে। এর মধ্যে ধুনট উপজেলায় ৭৮৪ জনের বয়স্ক ভাতার কার্ড বাতিল করা হয়েছে। উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নে ১২০ জন এবং সবচেয়ে কম পৌরসভায় ২৬ জন।

বাতিলকৃত ভাতাভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বয়স্কভাতার জন্য তারা জনপ্রতিনিধিদের কাছে ৫-৬ হাজার করে টাকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জমা দিয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধিরা অর্থের লোভে এনআইডি জালিয়াতির মাধ্যমে জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে বয়স বাড়িয়ে বয়স্কভাতা করে দিয়েছেন। কিন্ত এখন সেই কার্ডগুলো বাতিল করা হয়েছে।