neta-dinajpur24(দিনাজপুর২৪.কম) পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ রাজনৈতিক এলাকার পাশাপাশি সারাদেশ চষে বেড়াচ্ছেন ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ঢাকাতে ঈদ করলেও ঈদ পরবর্তীতে নিজ এলাকায় ছুটে গেছেন ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক হানিফ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন নিজ নিজ এলাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি টেলিফোনে বলেন, দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ বাস্তবায়নেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতারা ঈদের পর বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। বিশেষ করে জঙ্গিবাদমুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে তরুণ সমাজকে এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের দিক নির্দেশনা দিতেই আমরা ছুটে যাচ্ছি নানা জেলাতে। এ পর্যন্ত আমি নিজেই কুষ্টিয়া ছাড়াও ঝিনাইদহ, রংপুর এবং ঠাকুরগাঁও আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছি। আগামীকাল শনিবার ঢাকায় ফিরবো। দলের মধ্যে তৃণমূলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানও হচ্ছে এসব অনুষ্ঠানে। আগামী মাসে দলের কাউন্সিলকে সামনে রেখে এ ধরনের কার্যক্রম আওয়ামী লীগের শক্তিকে আরো বেগবান করবে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে শিল্পমন্ত্রী ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু ঈদের দিন বিকালেই নিজ নির্বাচনি এলাকা ঝালকাঠিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে যান। যদিও তিনি শুক্রবার ঢাকায় ফিরেছেন। ঝালকাঠি ও বরিশালে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের জঙ্গিবাদ ইস্যুতে সজাগ থাকার নির্দেশ দেন।

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম বিভাগ চষে বেড়াচ্ছেন। নোয়াখালীতে ঈদ শেষ করেই পরদিন ছুটে যান কক্সবাজারে। সেখানে তিনি কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়ক এবং  কক্সবাজারের কলাতলীতে বিচ্ছিন্ন থাকা আড়াই কিলোমিটার সড়কের কাজের বিষয়ে কথা বলেন এবং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। এছাড়া শুক্রবার তিনি বান্দরবানে সার্কিট হাউজে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সুধীসমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হন। আগামীকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম হয়ে তিনি ঢাকা ফিরবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ঈদের দিন বিকালেই নিজ নির্বাচনি এলাকা রংপুর চলে যান। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে বর্তমান সরকারের সমালোচনাও করেন। ঈদের পরদিন রংপুরের নিজ বাসভবনে

সাংবাদিকের বলেন, দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন।

সংসদের বাইরে থাকা বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদ উদযাপন করেন। সেখানে তিনি দলের নেতাকর্মীদের বলেন, এ সরকারের বিপক্ষে গণআন্দোলন তৈরি হবে। একদিন মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। এরপর দিনই ঝিনাইদহে অন্য এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে কারাগারে বন্দী নেতারা মুক্ত হয়ে সরকার পতনের আন্দোলনে রাজপথে নামবে। শুক্রবার সকালে ঢাকা ফিরেছেন বিএনপি মহাসচিব।

এছাড়া বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন নিজ এলাকা নরসিংদীতে ঈদ উদযাপন করেছেন। এরপর তিনি ছুটে যান পার্শ্ববর্তী জেলা কিশোরগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি সরকার পতনের আন্দোলনে আরো বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালনের জন্য নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। -ডেস্ক