(দিনাজপুর২৪.কম)সারাদেশে ডেঙ্গু নিয়ে চলমান উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দলের নেতাকর্মী ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় মোবাইল ফোনে দলীয় নেতাকর্মীদের এমন নির্দেশ দেন তিনি। সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে লন্ডন সফররত প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পার আগামী ৩১ জুলাই থেকে তিন দিন সারা দেশে সচেতনতামূলক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী ৩১ জুলাই, ২ ও ৩ আগস্ট এই তিন দিন সকাল ১১ টা থেকে ১২টা পর্যন্ত জেলা-উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি সর্তকতামূলক লিফলেটও বিতরণ করবে দলটি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। ডেঙ্গুকে আমরা সহজভাবে নিচ্ছি না, সিরিয়াসলি নিচ্ছি। আমরা সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিয়েছি।

আমাদের নেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে আমরা সচেতনতা ও সতর্কতামূলক সভা-সমাবেশ করবো।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী লন্ডন থেকেও প্রতিনিয়ত বানভাসি ও ডেঙ্গু পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছেন। বৈঠক চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তাদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

চিকিৎসার ঝামেলা না থাকলে প্রধানমন্ত্রীর এখন বিদেশ থাকার কথা নয়। তিনি লন্ডনে বসেই ঢাকার দুই মেয়র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ডেঙ্গু এতটা প্রকট হবে আমরা আগে ভাবিনি। সরকার ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধ আছে বলেই আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে পারছি। যত ভয়াবহ বিস্তারই ঘটুক না কেন- আমরা মোকাবিলা করতে পারবো।

এসময় দেশের বন্যা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বন্যার্তদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও সরকার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে। বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন অব্যাহত থাকবে। যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন তাদের ঘরবাড়ি করে দেয়া হবে। সব ধরনের সহযোগিতা করে যাবে সরকার।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সভায় ডেঙ্গু, বন্যা ও উপজেলা নির্বাচনে যারা নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তাদের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে যারা বিদ্রোহ করেছে ও মদদ দিয়েছে তাদের শোকজ এবং দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। যাচাই-বাছাই করে এসব ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন আছে।

এসময় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম, বিএম মোজাম্মেল হক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ও উপদপ্তর সম্পাদক ব্যরিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।-ডেস্ক