(দিনাজপুর২৪.কম দেশজুরে ডেঙ্গু জ্বরের ব্যাপক প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রলম্বিত বর্ষার কারণেই চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরের ব্যাপক প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বিগত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মশাবাহিত এ রোগে ১ হাজার ২৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করেছে। এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদের ছেলেসহ ৫ জন ইতোমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, চলতি বছর বর্ষার ব্যাপকতায় বিগত মার্চ মাস থেকে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গুবাহী মশা সাধারণত দিনের বেলায় মানুষকে কামড়ায়। এ জন্য তিনি এ মশা প্রতিরোধে বাসা-বাড়ীতে ও কর্মস্থলে কোন ধরনের জলাবদ্ধতা, ভেজা ও স্যাতস্যাতে স্থান না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। ডেঙ্গু মশা সকালে ও বিকেলে কামড়ায়। এ মশার কামড়ের হাত থেকে স্কুলগামী শিশুদের রক্ষায় তাদের ফুলশার্ট পরিয়ে স্কুলে পাঠানোর জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেন তিনি। তবে ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস (ডিজিএইচএস)-এর কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছেন যে, রেকর্ডপত্র থেকে দেখা যায় ডেঙ্গু রোগ এক বছর পর পর আরো তীব্রতা নিয়ে ফিরে আসে।
ডিজিএইচএস’র ন্যাশনাল হেলথ কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. আয়েশা আখতার বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভিন্ন নমুনা তুলে ধরে তিনি বলেন, গতবছর এ সংখ্যা ছিলো ৭৭৭ জন। কিন্তু এর পূর্ববর্তী বছর ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিলো ১ হাজার ৭৪৯ জন।
ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলকি, ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চে (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, চলতি বছরের দীর্ঘ বর্ষায় মশা ও ডেঙ্গুবাহী মশার প্রজনন বেড়ে গেছে। তবে স্বস্তির বিষয় যে, এবারে ডেঙ্গু রোগী বেশী হলেও মরণঘাতী ‘হোমোরেজি’ ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম। তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বর্ষা মওসুম শেষের সঙ্গে ডেঙ্গুও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা যায়।
ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদ্বয় বলেছেন যে, তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা অভিযান জোরদার করেছেন এবং এ লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন, প্রচার অভিযানের পাশাপাশি শিগগিরই মশা মারার ওষুধ ছিটানো অভিযানও শুরু হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্ষার সময় মশার ওষুধ তেমন কাজে লাগেনি। বর্ষা বিদায় নেয়ায় আমরা পুরোদমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবো। এছাড়া ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রচারণা কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে বাউল শিল্পীদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পক্ষান্তরে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এর আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের পুনরায় এ জাতীয় রোগের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বেশী। এ জন্য তাদের এর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বেশী সতর্ক থাকতে হবে। -ডেস্ক