(দিনাজপুর২৪.কম) গেল চার বছরে পরিসংখ্যানের বিচারে বর্তমান বাংলাদেশের সেরা বোলার মোস্তাফিজুর রহমান। সেরা উইকেট শিকারিও বটে। ২০১৫ সালে অভিষেকের পর ক্রিকেট দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেন তিনি। কাটার পারদর্শিতার জন্য ‘কাটার মাস্টার’ বলে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪৬টি ম্যাচ খেলে ৮৩ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। তার চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেও সেটি পারেননি মাশরাফি-সাকিবরা। ফিজের চেয়ে ১৯ ম্যাচ বেশি খেলে ৮২ উইকেট দখলে নিয়েছেন ম্যাশ। আর ১১ ম্যাচ বেশি খেলে ৬৭ উইকেট ঝুলিতে ভরেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে সেরা সময় পার করার পর ইনজুরিতে পড়ে নিজের ছন্দ হারিয়ে ফেলেন মোস্তাফিজ। এর পর ছন্দে ফিরতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

নিজের ব্যাপারে মোস্তাফিজের মূল্যায়ন

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে যেমন দ্যুতি ছড়িয়েছেন, তেমন খারাপ দিনও কাটিয়েছেন। পারফরম্যান্স নিয়ে যেমন প্রশংসায় ভেসেছেন, তেমন বাজে বোলিংয়ের জন্য কাটাছেঁড়া হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ চলাকালীন এসব বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

স্বীকারোক্তির সুরে কাটার মাস্টার বলেন, শুরুর দিনগুলোতে আমার বল বোঝা ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন ছিল। যতদিন গড়িয়েছে, ততই সহজ হয়ে গেছে আমার কাটার।

চলতি বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড সফর এবং সবশেষ আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজটা খুব ভালো যায়নি মোস্তাফিজের। ফলে প্রশ্ন উঠে গেছে, অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বলে বিবেচিত এ বোলারের ঠিক কী হলো?

২০১৬ সালে চোট পান মোস্তাফিজ। ফলে ১৬-১৭ মৌসুমে তার উইকেট সংখ্যা ও গড়ে প্রভাব পড়ে। ইনজুরির পরে মূলত দেশের বাইরে বেশি খেলেছেন। সেটিকেও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

টাইগার বোলিং আক্রমণের কর্ণধার বলেন, নতুন একজন বোলার এলে তার সম্পর্কে অনেকে জানে না। এখন আমার সম্পর্কে অনেকে জানে যে আমি এটা করি বা ওটা। আগে বেশিরভাগ সময় আমার বোলিংয়ে ক্যাচ হয়ে যেত। এখনও হয়, তবে মারতে গেলে।

নিজের বোলিং সম্পর্কে এ পেস সেনসেশন বলেন, আগে মারতে না গেলেও উইকেট পেতাম। আর শুরুতে আমি দেশে খেলেছি। ইনজুরির পর বিদেশে বেশি খেলেছি। দেশের উইকেট হলে আগের আমাকে বেশিরভাগ সময় পাওয়া যেত। ওখানে বল ঘুরে।

আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে না মোস্তাফিজ

বাংলাদেশের সাবেক পেস কিংবদন্তি হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, তিন জাতি সিরিজে শেষ ম্যাচে মোস্তাফিজ যেমন বোলিং করেছে, সেটি চিন্তা করলে ইংল্যান্ডে ভালো করা কঠিন। তবে এর আগের ম্যাচে যেমন খেলেছে, তাতে মনেই হচ্ছিল, ছন্দে ফিরেছে সে।

তিনি বলেন, এখনও খুব সম্ভবত মোস্তাফিজ আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে না। ফিট না থাকলে তো আর বোলিংয়ে আসত না। তাই আত্মবিশ্বাসটাই এখন মূল কারণ মনে হচ্ছে।

ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে ফিজের। সেখানে কাউন্টি ক্রিকেট দল সাসেক্সের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। ইনজুরিতে পড়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি। এর আগেও বয়সভিত্তিক দলের হয়ে ইংলিশ কন্ডিশনে তার বোলিং অভিজ্ঞতা রয়েছে।

হাসিবুল হোসেন বলেন, মোস্তাফিজ এমন একজন বোলার যার ছন্দ খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো কন্ডিশনে ছন্দ খুঁজে পেলে সে প্রায় সব ব্যাটসম্যানকেই খাবি খাওয়াতে সক্ষম। এমন সময়ে ইংল্যান্ডে দলের সমন্বয় ও তাকে সাপোর্ট দিয়ে যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।-ডেস্ক