-ফাইল ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার অষ্টম বার্ষিকী আজ ১১ ফেব্রুয়ারি। হত্যাকাণ্ডের আট বছর পার হলেও হত্যা মামলাটির তদন্তের কূল-কিনারা করতে পারেনি তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশের বিশেষ সংস্থা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গতকাল আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পিছিয়ে ২৩ মার্চ নির্ধারণ করেছে। এ নিয়ে ৭১ বারের মতো পেছাল প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ। হতাশা প্রকাশ করে সাগরের মা হত্যায় জড়িত সন্দেহে আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো আজও প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি।

গতকাল মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা ও র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার শফিকুল আলম। গতকাল তিনি আদালতকে জানান, তদন্তে কোনো ক্লু (সূত্র) পাওয়া যায়নি। চারটি ডিএনএ প্রতিবেদনের মধ্যে দুটি মিলেছে। তবে আসামিদের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় সেগুলো ফের যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইয়ের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরে সময় বাড়ানোর আবেদন জানালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস ২৩ মার্চ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এর আগে ৭০ বার তারিখ পেছানো হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার শফিকুল আলম প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব সম্পর্কে বলেন, আসামি শনাক্ত না হওয়ায় দেরি হচ্ছে। সন্দেহভাজন হিসেবে আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণচন্দ্র রায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কে কে জড়িত এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সেটি আমার জানা নেই। তবে এ ঘটনায় ছয় জন কারাগারে।’ চলতি বছরে প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব কি না, তা-ও নিশ্চিত নন তিনি। গত বছরের মে মাসে মামলার দায়িত্ব পেয়েছেন উল্লেখ করে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলাটি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তবে তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে এবং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই বলেও জানান তিনি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এফবিআইয়ের ল্যাব থেকে আবার ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া গেলে আসামিদের শনাক্ত সহজ হবে। মূলত ডিএনএ পরীক্ষায় মিললেই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব বলে র‌্যাব গত আট বছর ধরে দাবি করে আসছে। যদিও এফবিআইয়ের কাছ থেকে পাওয়া ডিএনএ রিপোর্ট গতকাল পর্যন্ত র‌্যাব আদালতে পূর্ণাঙ্গভাবে দাখিল করেনি। এ নিয়ে নিহতদের পরিবার ও সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ, র‌্যাবের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনার রিপোর্ট উধাও হয়ে গেছে। ডিএনএ রিপোর্ট নিয়ে র‌্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কেউই গণমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেননি।

এদিকে আট বছর ধরে ছেলে ও পুত্রবধূ হত্যা মামলার তদন্তের প্রক্রিয়া দেখে হতাশ হয়ে পড়া সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির বলেন, এখনো তদন্তের কোনো সুরাহা না হওয়ায় হত্যা মামলায় সন্দেহজনকভাবে যারা আটক হয়ে কারাগারে আছেন, তাদের ছেড়ে দেওয়া উচিত।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরের দিন রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা। ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তের ভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর। দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব। মামলার বাদী বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা বারবার সময় নিচ্ছেন, সর্বশেষ গতকালও সময় চেয়েছেন এবং আদালতও বারবার সময় দিচ্ছেন। সেখানে আমাদের আর কী বলার আছে!’ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘আমরা এ হত্যার বিচার চাই। হত্যার তদন্ত নিয়ে তালবাহানার কারণও আমরা জানতে চাই।’ -ডেস্ক