(দিনাজপুর২৪.কম) বাংলাদেশে এখন সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ। গতবার এই হার ছিল ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ। নিরক্ষর ব্যক্তি ৩ কোটি ২৫ লাখ। আর বিদ্যালয় বহির্ভূত ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু ১০ লাখ। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে নিরক্ষরদের সাক্ষরতা জ্ঞান এবং বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (০৬সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। মন্ত্রী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সূত্র উল্লেখ করে প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত নতুন উপাত্ত তুলে ধরেন।

পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা কতদিন চলবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘যতদিন সরকার এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে, ততদিন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চলবে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত করার বিষয়টি এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে আছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে এটার বাস্তবায়ন হবে। ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের নানা কর্মসূচি তুলে ধরেন মন্ত্রী। এর মধ্যে আছে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সেমিনার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকে ‘সবার জন্য শিক্ষা’ অর্জনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও সাক্ষরতা বিস্তারে বিভিন্ন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। দেশে সার্বিক সাক্ষরতা আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা জ্ঞান দেওয়া হয়। বর্তমান সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ।’

গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশে নিরক্ষরতা দূরীকরণে ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে সাক্ষরতা জ্ঞান দেওয়ার জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা) বাস্তবায়ন করছে।’

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দেশের ৫০ লাখ নব্য-সাক্ষরকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, সাক্ষরতা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা, বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুদের উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে এবং কিছু শহর এলাকায় মোট ৫ হাজার ২৫টি আইসিটিভিত্তিক স্থায়ী কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রতিটি জেলায় একটি করে মোট ৬৪টি স্থায়ী ‘জীবিকায়ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মোহাম্মদ আসিফ উজ জামান, উপআনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক তপন কুমার ঘোষ প্রমুখ। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের নানা কর্মসূচি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। – -ডেস্ক