(দিনাজপুর ২৪.কম) স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সুনাম ক্ষুণ্ণের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার একদিন পর বুধবার ফরিদপুরের এক নম্বর আমলি আদালতের বিচারক হামিদুল ইসলাম শুনানি শেষে প্রবীর সিকদারকে জামিন দেন। মঙ্গলবার একই আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং তাকে সতকর্তার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন।
পুলিশ বুধবার সকালে প্রবীর শিকদারকে আদালতে হাজির করলে তার আইনজীবী জামিন প্রার্থনা করেন। এ সময় বাদী পক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধীতা করেননি। শুনানি শেষে বিচারক প্রবীর শিকদারের জামিন মঞ্জুর করেন। তার বিরুদ্ধে করা মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ ছিল আগামী ২২ আগস্ট।
এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী স্বপন পাল বলেন, ‘প্রথম দিন শেষে আর জিজ্ঞাসাবাদের কিছু না থাকায় প্রবীর শিকদারকে আদালতে হাজির করা হয় এবং মানবিক কারণে আমরা তার জামিনের বিরোধীতা করিনি।’ বিবাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নু বলেন, ‘রিমান্ডের আর প্রয়োজনীয়তা না থাকায় আমরা প্রবীর শিকদারের জামিন চাই। আদালত শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।’
মন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘটনায় গত রোববার রাতে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের পত্রিকা কার্যালয় থেকে প্রবীরকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রবীর সিকদার ‘উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ’ ও ‘দৈনিক বাংলা ৭১’ নামের পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। তিনি এর আগে সমকাল ও কালের কণ্ঠে কাজ করেন।
ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে মন্ত্রীর সুনাম ক্ষুণ্ণের অভিযোগে রোববার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানায় মামলাটি (নম্বর-২৮) করেন স্থানীয় আইনজীবী স্বপন কুমার পাল।
স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা ও জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার এজাহারে উল্লেখ করেন, প্রবীর সিকদার গত ১০ আগস্ট তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘আমার জীবন শংকা তথা মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী থাকবেন’ শীর্ষক একটি স্ট্যাটাস লেখেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি খুব স্পষ্ট করেই বলছি, নিচের ব্যক্তিবর্গ আমার জীবন শংকা তথা মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবেন: ১. এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, ২. রাজাকার নুলা মুসা ওরফে ড. মুসা বিন শমসের, ৩. ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকার ওরফে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং এই তিন জনের অনুসারী-সহযোগীরা।’

(ডেস্ক)