(দিনাজপুর২৪.কম) প্রথম ধাপের পর দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনেও সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ১১ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৮ জন। এর মধ্যে শিশু থেকে শুরু করে রয়েছেন মহিলা, নির্বাচনের প্রার্থী, এজেন্ট, কর্মী, সমর্থক। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী সহিংসতায় মারা গেছে শিশু সাহিদুল ইসলাম শুভসহ অন্তত ১১ জন। এর আগে তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত ২৮শে মার্চ পর্যন্ত মারা গেছে আরও ২৭ জন। এর মধ্যে ২২শে মার্চ প্রথম দফা নির্বাচনের দিনই সহিংসতায় ১২ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রথম দফায় ৩৬ জেলার ৭১২টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে মাত্র ৪ জেলায় সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। বাকি ৩২ জেলাতেই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন কয়েকশ’ মানুষ। প্রথম দফার পর দ্বিতীয় দফা নির্বাচনেও শাসক দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের কেন্দ্র দখল, ব্যালট ও ভোট বাক্স ছিনতাই, কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তার, জালভোটসহ নির্বাচনী অনিয়ম ঠেকাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। ফলে পুনরাবৃত্তি ঘটেছে সহিংসতার। এই দফায় ৪৭ জেলায় ৬৩৯টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারও বেশির ভাগ জেলাতেই সহিংসতা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে যশোরে ৩, সন্দ্বীপে ৩, কেরানীগঞ্জে ১, মানিকগঞ্জে ১, মাদারীপুরে ১ ও জামালপুরের মেলান্দহে ১ জন নিহত হয়েছেন। যশোরে ১৫ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ৪ ইউনিয়নের ৭ কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। যশোরে লেবুতলা ইউনিয়নের আন্দোলপোতায় বোমা বিস্ফোরণে ইবাদুল হক (৩২) ও সবুজ (৩০) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া স্কুল কেন্দ্রে নির্বাচন চলাকালে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষে আবদুস সাত্তার (৬৫) নামে এক ফেরিওয়ালা নিহত হয়েছেন। কেরানীগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢালিকান্দি মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র শুভ নিহত হয়। জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের মামা-ভাগনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘর্ষে রফিকুল ইসলাম (৫২) নামে একজন। মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নে দক্ষিণ বীরাঙ্গল গ্রামে সহিংসতায় মারা যান একই এলাকার সুজন মৃধা। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রাম, শেরপুর, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাজীপুর, বগুড়া, পাবনা, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, চাঁদপুর, ভোলার বিভিন্ন উপজেলার বেশির ভাগ ইউনিয়নে কয়েকশ’ মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অপর দিকে ২২শে মার্চ প্রথম দফার নির্বাচনের দিনই মারা গেছে ১২ জন। এর মধ্যে ফিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ভোট গণনার আগে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালালে গুলি চালায় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা। এতে শাহাদাত (৩৫), কামরুল (২৫), সোহেল (২৬), বেলাল (৩০) ও সোলায়মান (২৫)সহ ৬ জন নিহত হন। কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাংয় ইউনিয়নে নির্বাচনের পরে সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় শফিকসহ ২ জন। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের জয়ানপুর এলাকায় মারা যান নোনাই বেগম (৫৫)। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার কয়েতাবাদ ইউনিয়নের বড় কান্দায় মারা যান সোহেল। বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিষারকান্দি ইউনিয়নে আনসার সদস্য আল আমিন (৪০) মারা যান। ঝালকাঠিতে মারা যান আরও একজন। -ডেস্ক