আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ফাইল ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম)  সহিংসতার শিকার নারীর অধিকার ও সুবিচার নিশ্চিত করতে বিনা খরচে সরকারি আইনি সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তি বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার এবং সুবিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে। যা নারী ও শিশুর অধিকার এবং তাদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, তারপরও নারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার বা বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনও অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছেন। আবার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তাদের অনেকে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, যা মোটেই কাম্য নয়।শনিবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি আইনি সেবার ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

আনিসুল হক বলেন, নারীরা কিন্তু শুধু শারীরিকভাবেই সহিংসতার শিকার হচ্ছে না; তারা বিভিন্ন উপায়ে মানসিকভাবেও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। যদিও মানসিকভাবে সহিংসতার শিকারের ঘটনাগুলো আমাদের সামনে সেভাবে প্রকাশ পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এসব মানসিক সহিংসতার কারণেই পরবর্তীতে আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে বা সেসব নারী মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, যার প্রভাব অনেক সময় পুরো পরিবারের ওপরেই পড়ছে। পরিবারকেন্দ্রিক নারীর প্রতি এসব শারীরিক ও মানসিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার ২০১০ সালে ‘পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন’ এবং ২০১৩ সালে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিধিমালা প্রণয়ন করেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, কিন্তু বাস্তবে এই আইনের প্রয়োগ আমরা খুব একটা দেখতে পাচ্ছি না। তার মানে এই আইন সম্পর্কে তারা এখনও পুরোপুরি জানে না। তাই এই আইন সম্পর্কে নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও জানাতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন প্রচারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

মন্ত্রী বলেন, পরিবারকেন্দ্রিক সহিংসতার শিকার নারীরা দেশে প্রচলিত আইন সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন হলে এবং তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপরাধসমূহ আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করালে এদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা অনেকটাই হ্রাস পাবে।

তিনি বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ কিন্তু অনেকটাই নারীবান্ধব আইন। তাই এই আইনের আওতায় নারী সেবাগ্রহীতার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে সহিংসতার শিকার নারীরা এখন ঘরে বসেই ‘১৬৪৩০’ হেল্পলাইনে ফোন করে সরকারি আইনি সেবা নিচ্ছেন এবং এ পর্যন্ত এক লাখ ৮৫ হাজার ২৮৬ জন নারী বিনা খরচে সরকারি আইনি সেবা নিয়েছেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার আইনি সহায়তা কার্যক্রম এখন ইউনিয়ন পর্যন্ত নিয়ে গেছে। নারী নির্যাতনের অনেক খবর সরকারের কাছে পৌঁছায় না। তাই বেসরকারি সংস্থাগুলোকে নারীর প্রতি সহিংসতার অভিযোগ পেলে তা সরকারি লিগ্যাল এইড অফিসে পৌঁছানোর বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, নারীরা যদি জানে যে, তার বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি বা সালিশের মাতব্বর সাহেবরাই শেষ ভরসাস্থল নয়, তাদের ভরসার আরও জায়গা আছে তাহলে তারা সেখানে (লিগ্যাল এইড অফিসে) যাবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে নারীদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং তাদের অভয় দিতে হবে।

জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বিকাশ কুমার সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বক্তৃতা করেন।-ডেস্ক