সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বিদায় নিলেন সালমান এফ রহমান – সংগৃহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন ‘অ্যাটকো’কে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বিদায় নিয়েছেন সালমান এফ রহমান। তিনি এই সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন এতোদিন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা হওয়ার কারণে সালমান এফ রহমান অ্যাটকো সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তার জায়গায় সংগঠনের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘(আমি বর্তমানে) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, তাতে অ্যাটকোরও যদি কোনো সমস্যা থাকে, সেখানে আমার যা সহযোগিতা করার, সেই সহযোগিতা আমি করব। অ্যাটকো যেন সুন্দরভাবে ভালোভাবে ভবিষ্যতে কাজ করতে পারে সেটা আমি কামনা করি।’

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে অ্যাটকো কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। বিদেশি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন প্রচার বিষয়ে চলমান সংকট সমাধানে অ্যাটকো নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের প্রতিনিধিরা।

সরকারের নির্দেশের পরও পরিবেশকরা এখনো বিদেশি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন চালাচ্ছেন, কিন্তু নির্দেশনা অনুযায়ী তার পরিবর্তে ক্লিন ফিড (বিজ্ঞাপনমুক্ত) প্রচার করার কথা। সরকারকে সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান অ্যাটকোর নেতারা।

বিদেশি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের নির্দেশ পালনে পরিবেশক বা কেবল অপারেটরদের কেউ জনঅসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন ‘অ্যাটকো’। এ  সম্পর্কে নবনির্বাচিত সভাপতি বলেন, ‘আমাদের যে অ্যাসোসিয়েশনটা- অ্যাটকো, এখন আমাদের সামনে কিছু কাজ, সেটা হচ্ছে, আপনারা শুনেছেন যে, ক্লিন ফিডের বিষয়টা। ইতোমধ্যে এটা সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। এবং এখন বিষয়টা হচ্ছে প্রয়োগ করার। তার জন্য আমাদের যত রকমের সহযোগিতা করা দরকার, সরকারকে বা তথ্য মন্ত্রণালয়কে, আমরা দেবো।’

অ্যাটকোর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘কোনো চ্যানেল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার নেয়নি। তারা (কেবল অপারেটর বা পরিবেশক) চ্যানেলগুলো বন্ধ করে যদি জনঅসন্তোষ তৈরির চেষ্টা করে, তাহলে সরকারের যে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আছে, অ্যাটকো তার প্রতি পূর্ণ সমর্থনে থাকবে।’

এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিদেশি চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপনমুক্ত বা ক্লিন-ফিড হিসেবে চাইতে হবে অথবা ফিল্টার করে সম্প্রচার করতে হবে। এদেশের টেলিভিশন, টিভি সাংবাদিক, অনুষ্ঠান নির্মাতা, শিল্পী কলাকুশলী সবার স্বার্থে এ আইন মানা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সবাই সহযোগিতা করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

‘২০০৬ সালের কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আইনের ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিদেশি কোনো টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এত দিন এ আইনটি কার্যকর করা হয়নি অথবা কেউ তা পালন করেনি। আমরা এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে আইনটি কার্যকর করব।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এখনো কিছু কিছু বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে। এই বিষয়ে আমরা দুটি পরিবেশককে নোটিশ দিয়েছি। আমরা কোনো চ্যানেল বন্ধ করিনি। যে দুটি পরিবেশক এখনও বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে তাদেরকে নোটিশ দিয়েছি আগামী সাতদিনের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য।’

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে ডাউনলিংক করে বিদেশি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। সরকার এ সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন ২০০৬ এর উপ ধারা ১৯ (১৩) এর বিধান লঙ্ঘন করে বাংলাদেশে ডাউনলিংকৃত বিদেশি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে পরিবেশক সংস্থা ন্যাশনওয়াইড মিডিয়া লিমিটেড এবং জাদু ভিশন লিমিটেডকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সাতদিনের মধ্যে তাদেরকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

‘বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো যে পরিমাণ বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন পাওয়ার কথা ছিল বর্তমানে তা পাচ্ছে না। প্রতিবছর বাংলাদেশের ৫০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। বিদেশি কোনো চ্যানেলে ডাউনলোড করে বিজ্ঞাপন না দেয়ার আইন ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আছে। আমাদের দেশে আইনটা ছিল, কিন্তু এতদিন কার্যকর ছিল না। আমি এখন এই আইনটি কার্যকর করছি,’যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী।

এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা এবার অত্যন্ত কঠোর। কোনো অবস্থায় আর ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলোর স্বার্থ আগে সংরক্ষণ করতে হবে।’ -ডেস্ক